
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থক হিসেবে পরিচিত ১৮ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। মঙ্গলবার বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পদত্যাগপত্রগুলো গ্রহণের পর নিয়ম অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
জানা গেছে, পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তারা বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২২৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব পালন করছেন। সেই তালিকা থেকে একসঙ্গে ১৮ জনের পদত্যাগ আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগকারী আইনজীবীরা হলেন মো. ইউসুফ আলী, মুহাম্মদ আবদুল করিম, মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, ফরিদ উদ্দিন খান, মো. আসাদ উদ্দিন, মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এবং আরও একজন আইন কর্মকর্তা, যার নাম বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইমরুল কায়েছ, মো. হুমায়ুন কবির, মো. আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, মো. জোবায়দুর রহমান, মোহাম্মদ শামসিল আরেফিন, মাহবুবা আক্তার রলী, মীর এ কে এম নূরুননবী, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম এবং মো. জাকির হোসেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে সরে দাঁড়ানো আইনজীবী মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা এবং বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রতিবাদে তারা পদত্যাগ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ কার্যকরের পক্ষে সমর্থন রয়েছে। সেই অবস্থানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইন অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, একসঙ্গে এতসংখ্যক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে রাষ্ট্রের আইনগত প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সরকার বা আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে পদত্যাগের প্রভাব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে।