
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় কয়েকটি নতুন ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের নামের সঙ্গে মিল রেখে একাধিক ইউনিয়নের নাম নির্ধারণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি গঠিত চারটি নতুন ইউনিয়নের মধ্যে তিনটির নাম প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে এবং পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি ইউনিয়নের নাম তার এক আত্মীয়ের নাম অনুসারে রাখা হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে মোকামতলা উপজেলার ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’ নিয়ে। সমালোচকদের দাবি, ইউনিয়নটির নামকরণ করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনপ্রবাসী ভাতিজি মীর স্বর্ণর নাম অনুসারে। এর আগে এলাকাটি ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিল। নতুন নাম ঘোষণার পর স্থানীয়দের একাংশ বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ ছাড়া ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ ও ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ নাম নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নাম অনুসারেই ইউনিয়ন দুটির নামকরণ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পূর্বে দাবি করা হয়েছে যে, নামগুলো ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নির্বাচন করা হয়েছে এবং সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল থাকা কেবল কাকতালীয়।
অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার নবগঠিত ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নটির নাম প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির পরিচিত নাম থেকেই নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণে ব্যক্তিগত প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়ে জনমনে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণ সাধারণত এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভূগোল, ঐতিহ্য এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকদের দাবি, নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণে সরকারি নিয়মকানুন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তারা বলছেন, নামগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়ের মিল থাকলেই সেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা যায় না।
নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত প্রভাব ছিল কি না, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেকেই।