.
জাতীয়

মশা মারতে আমেরিকা, এবার সড়কবাতি শিখতে ফ্রান্স! বিদেশ সফর নিয়ে নতুন বিতর্ক

Email :4

মশক নিধন শেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সামনে এলো আরেক বিদেশ সফরের প্রস্তাব। এবার সড়কবাতির প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে ১১ দিনের জন্য ফ্রান্স সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইট।
জানা গেছে, আগামী ২০ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তারা ফ্রান্সে অবস্থান করবেন। এ বিষয়ে অনুমতির জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রান্সভিত্তিক আলোকসজ্জা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিগনিফাইয়ের আমন্ত্রণে তারা দেশটির আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার পরিদর্শন করবেন।
সফরের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, আধুনিক ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী সড়কবাতি প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ভবিষ্যতে রাজশাহী নগরীর সড়ক আলোকায়নে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করবেন।
তবে সফরটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ সফরের পুরো ব্যয়ভার বহন করবে সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড। অর্থাৎ সরকারি অর্থ নয়, বরং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নেই এই বিদেশ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সিগনিফাই বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের তৈরি সড়কবাতি বিভিন্ন ডিলারের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠান চাইলে উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখার জন্য তাদের ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ঠিক কোন ডিলারের কাছ থেকে সড়কবাতি কিনছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাসিক প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তাও সফর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আধুনিক সড়কবাতির প্রযুক্তি জানতে বিদেশ সফর কতটা প্রয়োজনীয়? আবার কেউ বলছেন, উন্নত প্রযুক্তি ও নগর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এ ধরনের সফর কার্যকর হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বিদেশ সফর নিয়ে জনমনে যে সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সফরও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এই সফরের অনুমোদন দেয় কি না এবং শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যাত্রা বাস্তবায়িত হয় কি না।
একদিকে মশা নিয়ন্ত্রণ শেখার জন্য বিদেশ সফর, অন্যদিকে সড়কবাতির প্রযুক্তি জানতে ইউরোপ সফরের পরিকল্পনা— এসব উদ্যোগ সত্যিই উন্নয়নের অংশ, নাকি অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts