
মশা নিধনের প্রযুক্তি শিখতে যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর না, তারপর ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের একটি পোস্ট এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে চসিক মেয়র দাবি করেন, মশক নিধনের জৈবিক প্রযুক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য পৌঁছে দিয়ে সফরটিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
মেয়রের দাবি, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত চট্টগ্রামে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেসের জৈবিক লার্ভানাশক ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এরপর বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই সম্ভাবনা যাচাই করতেই যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডায় অবস্থিত কারখানা ও গবেষণাগার পরিদর্শনের আমন্ত্রণ আসে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সফরের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করার কথা ছিল আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের। মেয়রের মতে, বাংলাদেশে এ ধরনের কারখানা গড়ে উঠলে মশার লার্ভা নিধনের রাসায়নিক দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
কিন্তু সফরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নোটে লিখেছেন, “মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর কমানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গবেষণার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।
জানা গেছে, এই সফরে মেয়র শাহাদাত হোসেন ছাড়াও চসিকের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করা।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এটি কি সত্যিই একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প ছিল, নাকি অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর? আর মেয়রের দাবি অনুযায়ী, সত্যিই কি কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এই সফর আটকে দিয়েছে?
বিতর্ক যাই হোক, ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই সমাধান কি দেশের ডোবার পাশে, নাকি আমেরিকার গবেষণাগারে— সেই বিতর্কই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।