
দেখতে তারা ধর্মীয় শিক্ষার্থী, গায়ে ভিক্ষুর পোশাক—কিন্তু লাগেজের ভেতরে লুকানো ছিল ভয়ংকর এক চমক। শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ২২ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) থাইল্যান্ড থেকে একটি ফ্লাইটে কলম্বো পৌঁছানোর পর তাদের লাগেজ তল্লাশি করে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে কাস্টমস বিভাগ। প্রতিটি লাগেজে প্রায় ৫ কেজি করে গাঁজা লুকানো ছিল—এমনভাবে, যা সাধারণ চোখে ধরা পড়ার মতো নয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদকগুলো লাগেজের ভেতরে তৈরি করা বিশেষ গোপন চেম্বারে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, স্কুলের সরঞ্জাম ও মিষ্টির প্যাকেটের মধ্যেও লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এসব নিষিদ্ধ দ্রব্য।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই ভিক্ষুরা মূলত বিভিন্ন মঠের ছাত্র। অজ্ঞাত এক “দাতা” তাদের জন্য ৪ দিনের থাইল্যান্ড ভ্রমণের আয়োজন করেছিল—সব খরচ বহন করে। কিন্তু এই সফরের আড়ালে যে এমন একটি চক্র কাজ করছে, তা কেউ বুঝতেই পারেনি।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন পুলিশ কলম্বোর উপশহর থেকে আরও একজন ভিক্ষুকে গ্রেফতার করে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই পুরো সফরের মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি অন্যদের বলেছিলেন—লাগেজে থাকা প্যাকেটগুলো দান হিসেবে পাঠানো হচ্ছে এবং বিমানবন্দর থেকে একটি ভ্যান এসে সেগুলো সংগ্রহ করবে।
শ্রীলঙ্কা পুলিশের মাদকদ্রব্য দমন ব্যুরো অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছে, যেখানে দেখা যায় তারা থাইল্যান্ডে সাধারণ পোশাকে অবকাশযাপন করছেন। এই তথ্য পুরো ঘটনার পেছনে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে একটি বড় প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে—
এই ভিক্ষুরা কি জানতেন, তাদের লাগেজে মাদক রয়েছে?
পুলিশের ধারণা, তাদের অনেকেই হয়তো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং একটি চক্র তাদের ব্যবহার করেছে পাচারের জন্য।
এই ঘটনা শ্রীলঙ্কায় নজিরবিহীন। ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে এমন মাদক পাচারের অভিযোগে কোনো ভিক্ষু দলের একসঙ্গে গ্রেফতারের ঘটনা আগে দেখা যায়নি।
ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধের গল্প নয়—এটি দেখিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক মাদকচক্র কতটা কৌশলী হয়ে উঠেছে। তারা এখন বিশ্বাস, ধর্ম এবং নিরীহ মানুষের পরিচয়কেও ব্যবহার করতে দ্বিধা করছে না।
শেষ প্রশ্নটা তাই আরও গভীর—
যেখানে ভিক্ষুর পোশাকও আর নিরাপদ পরিচয় নয়, সেখানে বিশ্বাসের জায়গাটা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?