১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১৪ সোমবার বসন্তকাল
প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের পৈতৃক ভিটা ও একসময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় পা রাখতে যাচ্ছেন দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) তাঁর এই আগমনকে ঘিরে গোটা বগুড়া জেলাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সর্বত্রই ধানের শীষের প্রতীক বিক্রির ধুম পড়েছে। নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসন এবং দেশে ফেরার পর এটিই হবে নিজের নির্বাচনী এলাকায় তারেক রহমানের প্রথম সফর। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি তাঁর আসার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সড়কপথে বগুড়া আসছেন তিনি।

ছবি: সোয়েল রানা
পথসভা ও জনসভার বিস্তারিত রুট
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও নওগাঁয় দলীয় কর্মসূচি শেষ করে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। পথে সান্তাহার, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, কাহালুর বিবিরপুকুর, শেখাহার, মুরইল বাজার হয়ে বগুড়া শহরের প্রবেশমুখ চারমাথা ও তিনমাথা রেলগেট অতিক্রম করবেন। এরপর শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা হয়ে সন্ধ্যায় তিনি পৌঁছাবেন ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে। সেখানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।
জনসমুদ্রের শঙ্কায় ভেন্যু নিয়ে দোটানা
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে গত চার দিন ধরে মঞ্চ তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ চললেও, শেষ মুহূর্তে ভেন্যু নিয়ে কিছুটা দোটানায় পড়েছেন আয়োজকরা। মাঠটির ধারণক্ষমতা প্রায় এক লাখ হলেও, জনসমাগম তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সেল থেকেও ছোট মাঠ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক রেজাউল করিম জানান, “আলতাফুন্নেছা মাঠের ধারণক্ষমতা নিয়ে নিরাপত্তা সেলের আপত্তি থাকায় আমরা আজ (বুধবার) সকাল থেকে সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠসহ শহরের আশপাশের বেশ কিছু বিকল্প জায়গা পরিদর্শন করেছি। তবে শহরের বাইরের মাঠগুলোতে ফসল থাকায় সেখানে সভা করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত মূল জনসভা আলতাফুন্নেছাতেই করে, বাইরের জনতার জন্য বড় পর্দায় তা দেখানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।”
নাজ গার্ডেনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
বগুড়া সফরে তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের রাত্রিযাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে শহরের চার তারকা হোটেল ‘নাজ গার্ডেন’। হোটেলটিকে সাজানো হয়েছে নান্দনিক রূপে এবং জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
হোটেল মালিক ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শোকরানা জানান, তারেক রহমানের অনুপ্রেরণাতেই এই হোটেল গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ২০ বছর পর তিনি এখানে অতিথি হিসেবে আসছেন, যা তাঁদের জন্য গর্বের। নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হোটেলে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আজকের মধ্যেই সব কক্ষ খালি করা হচ্ছে। তারেক রহমানের জন্য দুটি প্রেসিডেন্সি সুইট এবং সফরসঙ্গীদের জন্য ১০০টি কক্ষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিটিভির মাধ্যমে পুরো এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
শুক্রবারের কর্মসূচি ও পৈতৃক ভিটায় আবেগঘন সফর
সফরের দ্বিতীয় দিন, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল থেকে তারেক রহমান নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ (সদর) আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করবেন। দুপুরে শহরের বায়তুর রহমান জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করবেন এবং নাজ গার্ডেনে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন।
বিকেলে তিনি রওনা হবেন গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে, যা তাঁর পৈতৃক নিবাস। সেখানে অবস্থিত ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করবেন তিনি। যাওয়ার পথে গাবতলী ও শাজাহানপুরে দুটি পথসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তাঁর।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনটি খালেদা জিয়ার দখলে ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর এবারই প্রথম তারেক রহমান এই আসনে লড়ছেন। ২০০৬ সালে সর্বশেষ বগুড়া সফর করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে পুরো বগুড়াবাসী।
Analysis | Habibur Rahman