১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১৩ সোমবার বসন্তকাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিনেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নাহিদ ইসলামকে শোকজ করা হলেও, একই ধরনের কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্ষেত্রে কমিশন ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও বিএনপির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও এনেছেন এই তরুণ রাজনীতিক।

বুধবার (আজ) ঢাকার সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার হাত থেকে দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’ বুঝে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
‘একই অপরাধে ভিন্ন বিচার’
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতির’ অভিযোগ এনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রশাসন সবাইকে সমান চোখে দেখছে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি কড়াইল বস্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি নাহিদ ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। অথচ গতকাল তারেক রহমান কড়াইল বস্তিতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তিন মাস পর ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নীরব।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রশাসন একদিকে হেলে পড়েছে। এখানে স্পষ্ট বৈষম্য চলছে—তারেক রহমানের জন্য এক নীতি, আর অন্য প্রার্থীদের জন্য আরেক নীতি।’’
প্রশাসন ও বিএনপির ‘যৌথ মহড়া’র অভিযোগ
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও বিএনপি একজোট হয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আমি একটি ব্যানার লাগিয়েছিলাম, যাতে কোনো দলীয় প্রতীক ছিল না। তবুও কমিশন আমাকে শোকজ করেছে। বিস্ময়কর হলো, সেই ব্যানার নামাতে ম্যাজিস্ট্রেট ও সিটি করপোরেশনের লোকজনের সঙ্গে বিএনপির লোকজনও উপস্থিত ছিল। প্রশাসন ও একটি রাজনৈতিক দল যদি এভাবে এক হয়ে কাজ করে, তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা কে দেবে?’’
শহীদ ওসমান হাদির বিচার ও ‘ইনসাফের ঢাকা’
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে আসা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ডা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য পেশিশক্তি ও টাকার খেলা বন্ধ করা।
নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘‘আমাদের প্রথম এজেন্ডা হলো ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা। তিনি এই আসনের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। ওসমান ভাই যে ‘ইনসাফের ঢাকা-৮’ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করতে চাই। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আর কাউকে হাদি ভাইয়ের মতো হারিয়ে যেতে না হয়।’’
আগামীকাল বৃহস্পতিবার শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য
প্রার্থীদের সমান সুযোগ না পাওয়া এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখে অনেক কথাই শোনা যায়, যার সবকিছুর উত্তর দেওয়া বা ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের আওতাভুক্ত নয়। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে যদি কেউ লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন, তবে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’’
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। এর আগে কোনো ধরনের শোডাউন বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।
Analysis | Habibur Rahman