.
রাজনীতি

ইসলামী আন্দোলনের ‘প্রত্যাখ্যাত’ ৪৭ আসন ১০ দলের মধ্যে ভাগ হবে: জোটের নতুন কৌশল জানালেন মামুনুল হক

Email :18

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:০৩ বুধবার বসন্তকাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি দলগুলোর জোটে আসন বণ্টন নিয়ে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এই জোটে না থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, দলটির জন্য ‘সংরক্ষিত’ ৪৭টি আসন এখন জোটভুক্ত বাকি ১০টি দলের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে।

রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মগবাজার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

আসন বণ্টনের নতুন রূপরেখা
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মাওলানা মামুনুল হক জানান, ইসলামী আন্দোলনকে জোটে পাওয়ার আশায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার দলটি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।

মামুনুল হক বলেন, ‘‘শুরু থেকে আমরা যে নীতিতে আসন ভাগাভাগি করেছি, সেই একই প্রক্রিয়ায় এখন ফাঁকা হওয়া ৪৭টি আসনের ফয়সালা হবে। এই আসনগুলোতে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে যার প্রার্থীকে সবচেয়ে ‘উইনেবল’ বা বিজয়ী হওয়ার যোগ্য মনে করা হবে, তাকেই ধানের শীষ বা জোটের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’’

সমঝোতা ও মনোনয়ন প্রত্যাহার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। মাওলানা মামুনুল হক আশা প্রকাশ করেন, এই সময়ের মধ্যেই বাকি আসনগুলোর সুরাহা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘‘চূড়ান্ত সমঝোতার পর প্রতিটি আসনে জোটের সমর্থিত একক প্রার্থী বহাল থাকবেন এবং বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।’’

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই জোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। যেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি আসন পায়। ইসলামী আন্দোলনের প্রস্থান এখন জোটের অন্য শরিকদের জন্য আসন সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রস্থান ও প্রভাব
ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ‘‘আমরা সম্মিলিত ঐক্যের ডাক দিয়েছিলাম এবং সেই অঙ্গীকারে আমরা অটল আছি। কোনো একটি দল না থাকায় খুব বড় কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। তবে হ্যাঁ, নিজেদের ব্যর্থতা এটাই যে আমরা সবাইকে শেষ পর্যন্ত এক ছাতার নিচে রাখতে পারিনি।’’

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এই মুহূর্তে নির্বাচনী আসন নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা থাকতে পারে। দলটির জোট ত্যাগের পেছনে কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছেন না বলেও জানান তিনি।

শরিয়াহ আইন ও বিভ্রান্তি নিরসন
সম্প্রতি জামায়াতের আমিরের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন অভিযোগ তুলেছিল যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাওলানা মামুনুল হক বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি যা বুঝাতে চেয়েছেন তা হলো—বর্তমানে দেশে যে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিদ্যমান, তাতে হুট করে একদিনেই শরিয়াহ আইন চালু করা সম্ভব নয়। এটি একটি ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়ার কথাই তিনি বলেছেন, যার সঙ্গে ইসলামি রাজনীতির কোনো অসংগতি নেই।’’

উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, তারা জোটের প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নয় এবং ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে। তাদের এই সিদ্ধান্তের পরই জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট দ্রুত বাকি আসনগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts