১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি বিকাল ৩:৪২ সোমবার শরৎকাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের এই প্রার্থীর দাবি, প্রতিপক্ষরা সুপরিকল্পিতভাবে এমন সব আপত্তিকর মন্তব্য করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপি নেতাকর্মীদের উত্তেজিত করে তোলা এবং নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করা।

বুধবার (আজ) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ইচ্ছাকৃত উসকানল ও আচরণবিধি লঙ্ঘন
কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করলেও মির্জা আব্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনী মাঠে কতিপয় প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেধে দেওয়া আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেন না। তারা অশালীন ও আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলে পরিবেশ নষ্ট করার পায়তারা করছেন।
সাবেক এই মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, “কিছু কিছু প্রার্থী এমন সব কথাবার্তা বলছেন, যা স্পষ্টতই উসকানিমূলক। তাদের কাজকর্ম এবং বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। তারা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন।”
গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৮ এর প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানানো হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, বরং এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, “আপনারা লক্ষ করলে দেখবেন, আমি যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, সেখানে কিছু কিছু প্রার্থী আমার সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলছেন। এসব উদ্দেশ্যমূলকভাবেই করা হচ্ছে, যাতে আমরা উত্তেজিত হয়ে পড়ি এবং কোনো ভুল পদক্ষেপ নিই।”
ধৈর্য ও সংযমের বার্তা
প্রতিপক্ষের এমন আচরণের মুখে বিএনপি পাল্টা কোনো আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মির্জা আব্বাস। উসকানির মুখেও দলের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার এবং নিজে সংযত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো ‘রিঅ্যাকশন’ (প্রতিক্রিয়া) দিতে চাই না এবং দেবও না। আমরা চাই, নির্বাচনটা সুষ্ঠু ও সুন্দর হোক। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না।”
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
নির্বাচনী মাঠের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল তফশিল ঘোষণা করলেই হবে না, মাঠ পর্যায়ে কারা আচরণবিধি ভাঙছে, তা দেখার দায়িত্ব কমিশনের।
মির্জা আব্বাস জোর দিয়ে বলেন, “এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ও আচরণ যেন কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ ততই তীব্র হচ্ছে। এমতাবস্থায় মির্জা আব্বাসের এই অভিযোগ নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
Analysis | Habibur Rahman