১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি বিকাল ৩:৪২ সোমবার শরৎকাল
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে দেশবাসী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের অভাবনীয় ঢল ও ভালোবাসা দেখে তিনি মন্তব্য করেছেন, খালেদা জিয়া নামটির ভার ও তাৎপর্য তিনি এই বিয়োগান্তক ঘটনার পরই সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারছেন।
শনিবার (শোক পালন শেষের পর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তারেক রহমান এই অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

‘খালেদা জিয়া’ নামের নতুন উপলব্ধি
তিন দিনের শোক পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, মায়ের বিদায়ে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যে পরিমাণ ভালোবাসা, দোয়া ও সমবেদনা তাঁরা পেয়েছেন, তা পুরো পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি বলেন, ‘এই তিন দিনে আমাদের এক নতুন উপলব্ধি হয়েছে। আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে বেঁচে ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে সেই অর্থের গভীরতা এতটাই বিশাল, যা হয়তো আমরা পরিবারের সদস্যরাও এতদিন পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।’
তারেক রহমান আরও লেখেন, অসংখ্য মানুষের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন ‘আপসহীনতার প্রতীক’। নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার এক অটল অনুপ্রেরণার নাম। এই অনুপ্রেরণা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।
সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
বেগম জিয়ার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, সরকারের দ্রুত সমন্বয় ও সহযোগিতার কারণেই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে এমন বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ
মায়ের মৃত্যুতে শোক জানানোয় প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বন্ধুপ্রতীম দেশ, বিদেশি কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি জানান, দুঃসময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং সহানুভূতি জানানো পরিবারকে শক্তি জুগিয়েছে।
ফিরে দেখা: একটি যুগের অবসান
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ৭৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে তাঁকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছিল দেশের মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
৩১ ডিসেম্বর লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। রাষ্ট্রীয় শোক শেষে তারেক রহমানের এই বার্তা যেন মায়ের প্রতি সন্তানের অনুভূতির পাশাপাশি এক জাতীয় নেত্রীর প্রতি গণমানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।
Analysis | Habibur Rahman
