৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:৫২ সোমবার গ্রীষ্মকাল
বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ বার্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান।

ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিক উল্লেখ করেন, তরুণ রাজনৈতিক নেতা শরিফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘ মহাসচিব অত্যন্ত ব্যথিত। তিনি নিহত হাদির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। গুতেরেস জোর দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনার তদন্ত হতে হবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যেন দ্রুততম সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়েও মহাসচিবের অবস্থান তুলে ধরেন ডুজারিক। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভয়ভীতিহীন নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সকল পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার করতে হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং যেকোনো মূল্যে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। বক্স কালভার্ট রোডে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই ঘটনাটি হত্যায় রূপ নেয়।
জাতিসংঘের এই বার্তা এমন এক সময়ে এল যখন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
Analysis | Habibur Rahman