১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:৩২ মঙ্গলবার বসন্তকাল
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক সৃষ্টি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্যতম সমালোচক মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত হওয়ার পর অবশেষে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেন।

আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে তিনি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের হাতে হাত রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
যোগদান অনুষ্ঠানের বিস্তারিত
জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টার দিকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তিনি সংগঠনের ‘প্রাথমিক সহযোগী সদস্য’ ফরম পূরণ করেন।
এ সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। ফরম পূরণের পর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তাকে উষ্ণ আলিঙ্গনে বরণ করে নেন এবং তার ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য দোয়া ও নেক হায়াত কামনা করেন।
কেন জামায়াতে যোগ দিলেন?
যোগদান পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এই এমপি জানান, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর যে অবিচল অবস্থান, তা তাকে মুগ্ধ করেছে। দলটির নীতি, আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রতি তিনি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, “জীবনের বাকি সময়টুকু আমি ইসলাম, ইসলামি মূল্যবোধ এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় ব্যয় করতে চাই।” তিনি জামায়াতের দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বর্ণাঢ্য ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন বেশ ঘটনাবহুল। তিনি ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসন (তৎকালীন কটিয়াদী উপজেলা) থেকে বিএনপির মনোনদয়নে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একসময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের জেরে তিনি বারবার বিএনপির হাইকমান্ডের বিরাগভাজন হন। সবশেষ ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদের (নৌকা প্রতীক) কাছে পরাজিত হন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে ভিন্নধমী ও স্পষ্টবাদী মন্তব্যের জন্য বেশ আলোচিত ছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে ‘ব্রাত্য’ হয়ে পড়ার পর তিনি ফের দলে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে নিজের নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা হিসেবে বেছে নিলেন।
Analysis | Habibur Rahman

