.
অর্থনীতি

ইতিহাসের তলানিতে ভারতীয় রুপি: ডলারের বিপরীতে দরপতনের নতুন রেকর্ড, বাড়তি সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা

Email :105

৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৬:২০ রবিবার গ্রীষ্মকাল

ভারতীয় অর্থনীতির জন্য বছরের শেষ সময়টা বেশ অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা কাটছেই না। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) মুদ্রাবাজারের লেনদেনে রুপির দরে বড়সড় পতন ঘটে, যা ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ড।

ডলার ও রুপি

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুক্রবার রুপির মান ২৪ পয়সা কমে প্রতি ডলারের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৫৬ রুপিতে। এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এই দর ছিল ৯০ দশমিক ৩২। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর তথ্যমতে, ডলারের বিপরীতে রুপির এই দরপতন স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কেন এই নজিরবিহীন দরপতন?
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা রুপির এই ‘ফ্রি-ফল’ বা অব্যাহত পতনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশাকে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ফোনালাপ এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির ভারত সফর সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে।

পাশাপাশি, আরও কয়েকটি বিষয় এই আগুনে ঘি ঢালছে:
১. বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার: ভারতের শেয়ারবাজার থেকে চলতি বছর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন, যা রুপির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে।
২. আমদানিকারকদের ডলার চাহিদা: বছরের শেষ দিকে এসে আমদানিকারকদের মধ্যে ডলার কেনার হিড়িক পড়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রার মান কমিয়ে দিচ্ছে।
৩. ধাতুর মূল্যবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধাতব পদার্থের দাম বেড়ে যাওয়াও রুপির অবমূল্যায়নে ভূমিকা রাখছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রুপির মান কমেছে প্রায় ৪.৮ শতাংশ। ফলে রুপি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার তকমা পেয়েছে। কেবল ডলারই নয়—ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতেও ভারতীয় মুদ্রার দর নিম্নমুখী।

বাংলাদেশিদের ওপর প্রভাব ও লাভ-ক্ষতির হিসাব
রুপির এই রেকর্ড দরপতন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারীদের জন্য ‘শাপে বর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২২ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো বাংলাদেশি ভ্রমণকারী যদি ডলার নিয়ে ভারতে যান, তবে ডলার ভাঙিয়ে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি রুপি পাচ্ছেন। এতে ভ্রমণ খরচ বা কেনাকাটায় তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

তবে মুদ্রার এই সুবিধাজনক বিনিময় হার সত্ত্বেও এর সুফল খুব বেশি মানুষ ভোগ করতে পারছেন না। কারণ, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও নিষেধাজ্ঞার ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াতকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তবুও যারা চিকিৎসার বা জরুরি প্রয়োজনে এখন ভারত সফরে আছেন, পকেটের ওপর চাপ কমাতে রুপির এই দরপতন তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।

বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা এখন তাকিয়ে আছেন ওয়াশিংটনের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্য নীতির কোনো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত রুপির বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts