১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:১০ বুধবার বসন্তকাল
টোকিও, ৯ ডিসেম্বর: রবিবার গভীর রাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপানের উত্তরাঞ্চল। স্থানীয় সময় ৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ আওমোরি উপকূল সংলগ্ন এলাকায় এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৬, যা জাপানের নিজস্ব তীব্রতা পরিমাপক স্কেলে ‘আপার ৬’ (Upper 6) হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এই মাত্রার কম্পনে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা বা চলাফেরা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর (JMA) সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র বা এপিসেন্টার ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। আওমোরি প্রিফেকচারের উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গভীর রাতে ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কম্পনের ঠিক পরপরই হোক্কাইডো, আওমোরি, ইওয়াতে এবং পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বড় ধরনের সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৩ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হলেও, বাস্তবে ২০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আঘাত হানে। তবে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত সুনামি সতর্কতা ও অ্যাডভাইজরি তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর
এখনও পর্যন্ত বড় কোনো ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া না গেলেও, কম্পনের তোড়ে ঘরবাড়ির আসবাবপত্র পড়ে এবং ছাদের অংশ খসে অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ১-২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো কাঠামোগত ক্ষতি বা তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার খবর নেই, যা প্রশাসনের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।
সতর্কবার্তা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর আগামী কয়েক দিন ধরে শক্তিশালী ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী কম্পন অনুভূত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই উপকূলীয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি পরিষেবা বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।
Analysis | Habibur Rahman

