১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:০৪ বুধবার বসন্তকাল
বাংলাদেশের অর্থনীতি কি কেবল ঝুঁকির মুখে, নাকি ইতিমধ্যেই বিপদসীমা অতিক্রম করেছে? এ নিয়ে যখন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা বিশ্লেষণ চলছে, তখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান কোনো রাখঢাক না রেখেই জানিয়ে দিলেন রূঢ় বাস্তবতার কথা। তার স্পষ্ট ভাষ্য, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি। এই সত্য স্বীকার না করলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়।’
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ এবং এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

রাজস্ব সংকট ও এনবিআর সংস্কার
এনবিআর চেয়ারম্যান অর্থনীতির এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য রাজস্ব আদায়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছর আগেও দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি ছিল, যা এখন কমে ৭ শতাংশের ঘরে এসে ঠেকেছে। জিডিপির সব খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। আবদুর রহমান খান জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এনবিআরকে ভেঙে দুটি পৃথক সত্তায় রূপান্তর করা হবে এবং দুজন ভিন্ন সচিবের নেতৃত্বে তা পরিচালিত হবে।
সুদের ভারে নুয়ে পড়া অর্থনীতি
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণ নিয়ে ঋণ পরিশোধ করার সংস্কৃতি দেশের জন্য অশনিসংকেত। তিনি বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলোর একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তার মতে, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পরই বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ। কৃষি ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো এখন সুদের ব্যয়ের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সংস্কার ও আর্থিক শৃঙ্খলা না ফেরাতে পারলে এই সংকট আরও গভীর হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আমানতকারীদের জন্য সুখবর
অর্থনীতির এই টানাপোড়েনের মধ্যেও ব্যাংক খাতের গ্রাহকদের জন্য আশার বাণী শুনিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ডিপোজিট গ্যারান্টি বা বিমার পরিমাণ ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
গভর্নরের আশ্বাস, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পেতে শুরু করবেন। সরকারের এই পদক্ষেপে প্রায় ৭৬ লাখ পরিবার তাদের হারানো আমানত ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন গঠিত ব্যাংকটি খুব দ্রুতই মুনাফার মুখ দেখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Analysis | Habibur Rahman