১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৫ সোমবার বসন্তকাল
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কেবল একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমে আটকে না রেখে ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নতুন করে সাজাতে চায় ঢাকা। দুই দেশের মধ্যকার কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও একে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নিয়েই অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) কলকাতায় মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার আট মাস পর এই কূটনীতিক স্পষ্ট করলেন, ঢাকা এমন একটি ‘নতুন পটভূমি’ বা ন্যারেটিভ তৈরি করতে চায়, যেখানে উভয় দেশ একে অপরের ভবিষ্যতের অংশীদার হতে পারে। তিনি বলেন, ‘মুখে বলা যতটা সহজ, বাস্তবে রূপ দেওয়া ততটা সহজ নয়। তবে এটি অসম্ভবও নয়। দুই দেশের মধ্যে কিছু সংবেদনশীল বিষয় বা ভিন্নমত থাকতেই পারে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বাভাবিক চরিত্র। কিন্তু আমরা যদি কেবল একটি বিষয় নিয়েই পড়ে থাকি, তবে পুরো সম্পর্কের প্রতি সুবিচার করা হবে না।’
হাইকমিশনার হামিদুল্লাহ দুই দেশের সম্পর্ককে ‘অর্গানিক’ বা ওতপ্রোতভাবে জড়িত হিসেবে অভিহিত করেন। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (আরবিআই) গত আগস্টের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার আকার ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের আমদানিকাঠামো এবং নতুন সক্ষমতার দিকে তাকালে আপনারা ভবিষ্যতের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাবেন।’
সম্পর্ক উন্নয়নে ‘সফট ডিপ্লোমেসি’ বা সাংস্কৃতিক কূটনীতির ওপরও জোর দেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি জানান, আগামী বছর দিল্লিতে একটি বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, তিনি একটি আবেগঘন প্রস্তাব উত্থাপন করেন—পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত তাঁদের পূর্বপুরুষদের ভিটেবাড়ি ভ্রমণের সুযোগ সহজ করা।
ভিসা ও যাতায়াত প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ঢাকা কোনো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। তিনি বিষয়টিকে ‘পারস্পরিক নির্ভরশীলতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
হাইকমিশনারের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন রাজনৈতিক আবহে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিয়েছেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ঢাকার পক্ষ থেকেও এর আগে বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনো একক ইস্যুতে আটকে থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এমসিসিআইয়ের মঞ্চে হাইকমিশনারের এই বক্তব্য দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের বরফ গলানো এবং বাস্তবিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার একটি জোরালো বার্তা।
Analysis | Habibur Rahman
