.
আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের রক্ষকই যখন ভক্ষক: রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ব্রিটিশ প্রশিক্ষক গ্রেপ্তার

Email :39

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:৩৯ বুধবার বসন্তকাল

ইউক্রেনীয় সেনাদের যুদ্ধের কৌশল শেখাতে এসেছিলেন তিনি, অথচ সেই তিনিই এখন কাঠগড়ায়। রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে রস ডেভিড কাটমোর (৪০) নামের এক ব্রিটিশ সামরিক প্রশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে ইউক্রেন। স্কটল্যান্ডের ডানফার্মলাইনের এই বাসিন্দা অর্থের বিনিময়ে ইউক্রেনের গোপন সামরিক তথ্য শত্রুপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বছর ব্রিটিশ আর্মির সঙ্গে রস ডেভিড কাটমোরকেও ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল সে দেশের সামরিক বাহিনীকে সহায়তার জন্যছবি: এক্স

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর দপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা গেছে, গত বছরের মে মাস থেকে কাটমোর রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) নির্দেশনায় কাজ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোর গোপন অবস্থান (কো-অর্ডিনেট), প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্পর্শকাতর ছবি এবং দায়িত্বরত সেনাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন তথ্য রুশ গোয়েন্দাদের সরবরাহ করেছেন।

তদন্তকারীরা জানান, কাটমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন রুশপন্থী গ্রুপে নিজেকে ‘কাজের জন্য লভ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। এরপরই ওডেসায় অবস্থানরত রুশ গোয়েন্দারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। মাত্র ৬ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে রাজি হন। এফএসবি তাকে বিস্ফোরক তৈরির নির্দেশনার পাশাপাশি একটি গোপন আস্তানার সন্ধান দেয়, যেখান থেকে তিনি একটি পিস্তল সংগ্রহ করেছিলেন।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, শুধু তথ্য পাচারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই সাবেক ব্রিটিশ সেনা। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেমিয়ান হানুল, ইরিনা ফারিওন এবং সংসদ সদস্য আন্দ্রি পারুবিইয়ের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের সন্দেহের তালিকায় কাটমোরের নাম শীর্ষে রয়েছে। এই তিনজনই আততায়ীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করা অভিজ্ঞ এই প্রশিক্ষক গত বছর ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সহায়তা করতে দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই এখন ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আটক নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। রাশিয়ার আগ্রাসনের পর হাজারো বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী ইউক্রেনের পক্ষে লড়তে এলেও, খোদ প্রশিক্ষকের এমন দ্বিমুখী আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts