৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৮:২৯ সোমবার গ্রীষ্মকাল
রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটের দিকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুন মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে বস্তির বিস্তীর্ণ এলাকায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বরং বাতাসের কারণে তা আরও নতুন নতুন ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে তা দ্রুতই বস্তির ভেতরের ‘গৌ বাজার’ ও এর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বস্তির ঘরগুলো বাঁশ ও টিনের তৈরি হওয়ায় এবং একটার সঙ্গে আরেকটা লাগোয়া থাকায় আগুন দ্রুত গ্রাস করছে একের পর এক ঘর। ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে মহাখালীর আকাশ।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বস্তিজুড়ে শুরু হয় চরম আতঙ্ক। জীবন বাঁচাতে সহায়-সম্বল ফেলে যে যার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। নারী ও শিশুদের কান্না আর চিৎকারে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। অনেকে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কাছে হার মানতে হচ্ছে। চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে তিল তিল করে গড়ে তোলা আশ্রয়স্থল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় একাধিক ইউনিট। তবে পানির সংকট এবং বস্তির সরু গলির কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ধাপে ধাপে ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে বর্তমানে ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবীরাও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংবাদমাধ্যমে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Analysis | Habibur Rahman

