১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি সকাল ১১:০৪ সোমবার শরৎকাল
গানের আসরে সৃষ্টিকর্তা ও ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (গতকাল) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার রাতে মাদারীপুরে একটি গানের অনুষ্ঠান চলাকালে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় অনুষ্ঠিত ‘খালা পাগলীর মেলা’য় পালাগান পরিবেশন করছিলেন বাউল আবুল সরকার। অভিযোগ ওঠে, গানের একপর্যায়ে তিনি ইসলাম ধর্ম এবং মহান আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয় আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিল্পী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেছেন এবং তার বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি দিয়েছে।
এদিকে বাউল শিল্পীর গ্রেপ্তারের খবরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় আলেম-ওলামারা। ‘তাওহীদি জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও স্থানীয় মসজিদের ইমামরা অংশ নেন এবং আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন তার সহশিল্পীরা। বাউল শিল্পীর সহকারী রাজু সরকার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আংশিক ও খণ্ডিত। পালাগানে তিনি প্রতিপক্ষ শিল্পীকে সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে কেবল একটি প্রশ্ন করেছিলেন, আল্লাহকে নিয়ে কোনো কটূক্তি করেননি। বরং তিনি অনুষ্ঠানে ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে ভিডিও এডিট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
জেলা ডিবির পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, আটকের পর বৃহস্পতিবার সকালে আবুল সরকারকে মানিকগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে আনা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
Analysis | Habibur Rahman



