.
আন্তর্জাতিক

গাজায় যুদ্ধবিরতির নামে প্রহসন! ৪৪ দিনে ৫০০ বার ইসরায়েলি লঙ্ঘন | Gaza Ceasefire Update

Email :42

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৬:৩৯ বুধবার বসন্তকাল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় বাজা যুদ্ধবিরতি এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। গত ১০ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির পর মাত্র ৪৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে। আর এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় অন্তত ৩৪২ জন সাধারণ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এই চিত্র। তাদের তথ্যমতে, গত দেড় মাসে মোট ৪৯7 বার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে ইসরায়েল।
গাজার সরকারি সূত্র জানায়, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, গুলিবর্ষণ এবং স্থল অভিযানের মাধ্যমে এসব লঙ্ঘন ঘটিয়েছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে নিয়মিত।

পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা গত শনিবারের (প্রতিবেদনে উল্লেখিত বার) ঘটনায় স্পষ্ট হয়। ওই এক দিনেই ২৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল। এতে একদিনেই ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৭ জন আহত হন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে অগ্রসর হওয়া এবং অবরোধের কারণে হাজার হাজার পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ত্রাণ সহায়তা আটকে দেওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাধিক্য প্রমাণ করে যে, এই আগ্রাসনের মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে নিরীহ বেসামরিক জনগণ।
গাজার মিডিয়া অফিস এই ঘটনাগুলোকে ‘পরিকল্পিত লঙ্ঘন’ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে, হামাস অভিযোগ করেছে যে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তাদের সীমানা ও আগ্রাসন বাড়াচ্ছে। সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এখন অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলের ধারাবাহিক লঙ্ঘন গাজাকে আবারও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts