১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:১৯ সোমবার বসন্তকাল
ছুটির দিনের আয়েশি সকালটা মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে। শুক্রবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট—হঠাৎ প্রলয়ঙ্করী কাঁপুনিতে কেঁপে উঠল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অর্ধাংশ। উৎপত্তিস্থল ঢাকার একেবারে উপকণ্ঠে হওয়ায় এবারের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও আতঙ্ক ছিল নজিরবিহীন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ জনের প্রাণহানি এবং শতাধিক মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক ভূ-তাত্ত্বিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫ থেকে ৫.৭। তবে ভয়ের মূল কারণ ছিল এর কেন্দ্রস্থল—নরসিংদীর মাধবদী ও ঘোড়াশাল এলাকা, যা রাজধানীর উত্তর-পূর্ব দিকের একেবারে সীমানা ঘেঁষা। একারণেই নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকায় কম্পনের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। এমনকি প্রতিবেশী ভারতের কলকাতাতেও এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব খুব বেশি না হলেও এর আঘাত ছিল প্রাণঘাতী। পুরান ঢাকার কাসাইতুলির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ ও দেয়াল ধসে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, সেখানে দেয়াল ধসে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে কাঁচা ঘরবাড়ি ও বারান্দা ভেঙে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২ জন।
গাজীপুরের টঙ্গী ও শ্রীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ছুটির দিনেও বেশ কিছু কারখানায় কাজ চলছিল। কম্পন শুরু হতেই বহুতল ভবন থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে এবং সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হয়েছেন শতাধিক শ্রমিক।
শুধু প্রাণহানিই নয়, রাজধানীর অবকাঠামোগত দুর্বলতাও আজ নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ঢাকার বুকে কয়েকশ’ ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বেশ কিছু ভবন হেলে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার এত সন্নিকটে (নরসিংদী) এমন মাত্রার ভূমিকম্প সাম্প্রতিক অতীতে রেকর্ড করা হয়নি, যা নগরের অপরিকল্পিত ভবনগুলোর জন্য অশনিসংকেত।
কম্পনের পরপরই ‘সেফটি প্রটোকল’ অনুযায়ী দেশের অন্তত ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ট্রিপ’ করে বা বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে রাজধানীসহ বেশ কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের এই ৫.৫ মাত্রার কম্পনটি ছিল একটি বড় সতর্কবার্তা বা ‘ওয়েক-আপ কল’। এখনই যদি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কল্পনার বাইরে চলে যেতে পারে।
Analysis | Habibur Rahman




