.
অন্যান্য

এটি ‘দেশ রক্ষার নির্বাচন’! ড. ইউনূসের ঐতিহাসিক ঘোষণায় নতুন মোড় | Bangladesh Election 2025

Email :78

১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:০৮ শনিবার বসন্তকাল

এটি আর পাঁচটা সাধারণ নির্বাচন নয়, যেখানে ব্যালট বাক্সে একটি সিল দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য শাসকের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যে অভিধায় অভিষিক্ত করেছেন, তাতেই স্পষ্ট—এবারের নির্বাচনটি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি একটি “দেশ রক্ষার নির্বাচন”; একটি গণভোট, যা নির্ধারণ করবে গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নতুন বাংলাদেশের আত্মপরিচয়।

সোমবার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস যখন এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন তিনি কেবল একটি নির্বাচনের রূপরেখা দিচ্ছিলেন না, বরং একটি জাতির পুনর্গঠনের দর্শন তুলে ধরছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই নির্বাচনটি হবে একই সঙ্গে দুটি জিনিস—একটি সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর একটি গণভোট। এর অর্থ হলো, জনগণ শুধু তাদের প্রতিনিধিই নির্বাচন করবে না, তারা দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধানিক কাঠামোর পক্ষে বা বিপক্ষে তাদের রায় দেবে। এটিই এই নির্বাচনকে অতীতের সব “প্রহসনমূলক নির্বাচন” থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে।

অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি ছিল प्रशासকদের প্রতি। তিনি জেলা প্রশাসকদের “নবজাতক জাতির ধাত্রী” হিসেবে অভিহিত করে তাদের ওপর অর্পণ করেছেন এক ঐতিহাসিক দায়। শতভাগ সততা ও নিরপেক্ষতার যে নির্দেশ তিনি দিয়েছেন, তা থেকে বোঝা যায়, এই নির্বাচনকে তিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি পবিত্র জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখছেন, যেখানে प्रशासকদের ভূমিকা হবে নিরপেক্ষ রেফারির মতো, যারা একটি নতুন দেশের জন্ম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন। “ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই”—এই একটি বাক্যই এই নির্বাচনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।

এই নির্বাচনের আরেকটি অনবদ্য দিক হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। গত ১৫ বছর ধরে যে লক্ষ লক্ষ তরুণ ও নারী ভোটার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের জন্য এই নির্বাচনটি কেবল একটি ভোট নয়, এটি তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি ফিরে পাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। তাদের অংশগ্রহণই এই নির্বাচনকে একটি সত্যিকারের গণ-উৎসবে পরিণত করবে।

ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন তাই নিছক একটি দিনপঞ্জির তারিখ নয়। এটি হতে চলেছে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে প্রতিটি ভোট নির্ধারণ করবে দেশের আগামী শতবর্ষের গতিপথ। এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের যৌক্তিক পরিণতি, যেখানে রাজপথের আন্দোলন ব্যালট বাক্সে এসে পূর্ণতা পাবে। তাই অধ্যাপক ইউনূসের চোখে, এটি ভোট নয়, এটি দেশ রক্ষার চূড়ান্ত গণভোট।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts