.
খেলা

রোনালদো নেই, তাতে কী? জোড়া হ্যাটট্রিকে আর্মেনিয়াকে উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল! | World Cup Qualifiers

Email :119

৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি সকাল ১০:৪৪ শুক্রবার শরৎকাল

পোর্তো, পর্তুগাল – ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখটা ছিল ১৬ নভেম্বর, ২০২৫। কিন্তু এস্তাদিও দো দ্রাগাও-এর সবুজ গালিচায় পর্তুগাল যে ইতিহাস লিখলো, তা নিছক একটি তারিখ হয়ে থাকবে না। এটি হয়ে থাকবে একটি বার্তা, একটি ঘোষণা এবং হয়তো এক নতুন যুগের সূচনা। দলের মহাতারকা ও চিরকালীন অনুপ্রেরণা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাইডলাইনে, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন পর্তুগালের পথটা কঠিন হবে। কিন্তু সব সংশয়কে গোলপোস্টের জালে জড়িয়ে দিয়ে রবার্তো মার্টিনেজের দল আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রমাণ করলো, এই পর্তুগাল এখন আর এক নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত নয়, বরং এটি একটি জ্বলজ্বলে নক্ষত্রপুঞ্জ।

আয়ারল্যান্ডের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর এই ম্যাচটি ছিল পর্তুগালের জন্য আত্মসম্মান পুনরুদ্ধারের লড়াই। সেই লড়াইয়ে সেনাপতির দায়িত্বে ছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে তিনি শুধু দলকে নেতৃত্বই দেননি, সামনে থেকে দুটি পেনাল্টিসহ হ্যাটট্রিক করে বুঝিয়ে দিয়েছেন দায়িত্ব নিতে তিনি প্রস্তুত।

তবে রাতের সবটুকু আলো কেড়ে নিলেন তরুণ তুর্কি জোয়াও নেভেস। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ, নিখুঁত ফিনিশিং আর হ্যাটট্রিক—নেভেসের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, পর্তুগালের মাঝমাঠের ভবিষ্যৎ তার পায়েই সুরক্ষিত। তার এই পারফরম্যান্স ছিল প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন আর পর্তুগিজ সমর্থকদের জন্য আগামীর স্বপ্ন।

এই ম্যাচে পর্তুগালের গল্পটা শুধু দুই হ্যাটট্রিক নায়কের ছিল না। এটি ছিল একটি সম্মিলিত শক্তির প্রদর্শন। রেনাতো ভেইগার শুরুর গোলটি ছিল আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়ার মতো। গনসালো রামোস প্রমাণ করেছেন, ফরোয়ার্ড লাইনে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য সৈনিক। আর শেষ মুহূর্তে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও-এর গোলটি ছিল যেন এই গোল উৎসবের শেষ বাজি। আর্মেনিয়ার হয়ে এদুয়ার্দ স্পার্টসিয়ানের একমাত্র গোলটি এই একপেশে ম্যাচে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি।

এই ৯-১ গোলের জয় শুধু পর্তুগালকে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেয়নি। এটি বিশ্ব ফুটবলকে একটি জোরালো বার্তা দিয়েছে—পর্তুগাল এখন কেবল একজন কিংবদন্তির উপর নির্ভরশীল নয়। তাদের হাতে রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। রোনালদোর ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে পর্তুগাল যে নতুন পরিচিতি তৈরি করলো, তা নিঃসন্দেহে তাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts