.
অন্যান্য

বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর! লালদিয়া টার্মিনালে আসছে দ্বিগুণ ক্ষমতার জাহাজ | Chittagong Port Laldia Terminal

Email :132

১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:৩৮ মঙ্গলবার গ্রীষ্মকাল

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে বইছে পরিবর্তনের এক নতুন হাওয়া। বন্দর সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার এক ambitious পদক্ষেপে লালদিয়া চরে নির্মিত হতে চলেছে এক অত্যাধুনিক টার্মিনাল, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আনতে চলেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানিয়েছে, এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এখানে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ ধারণক্ষমতার বিশাল জাহাজ অনায়াসে নোঙর করতে পারবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই যুগান্তকারী প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “আমরা শুধু একটি টার্মিনাল নির্মাণ করছি না, আমরা দেশের বাণিজ্যিক ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করছি।” তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩২ একরজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় থাকছে সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত একাধিক স্থাপনা। এর মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ১৪ একর জমিতে তৈরি হচ্ছে একটি সুবিশাল ট্রাক টার্মিনাল, যেখানে একসাথে প্রায় ১,৫০০ ট্রাক ধারণের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে বন্দরে পণ্য পরিবহনে শৃঙ্খলা আসবে এবং দীর্ঘদিনের যানজটের ভোগান্তি কমবে।

শুধু তাই নয়, ভারী ও বিশালাকার যন্ত্রপাতি বা পণ্য ওঠানামার জন্য ৮ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে একটি বিশেষায়িত ‘হেভি লিফট কার্গো জেটি’। পাশাপাশি, বিশ্বখ্যাত ডাচ প্রতিষ্ঠান ‘এপিএম টার্মিনালস’-এর জন্য আলাদাভাবে ১০ একর জায়গা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যারা এই টার্মিনালের উন্নয়ন ও পরিচালনায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে সহযোগিতা করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং সক্ষমতা এক লাফে প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কেবল ছোট বা মাঝারি নয়, বিশ্বের বড় বড় মাদার ভেসেলগুলোও সরাসরি বাংলাদেশের জেটিতে ভিড়তে পারবে। এটি দেশের সামগ্রিক লজিস্টিকস খরচ কমিয়ে আনবে এবং সময় সাশ্রয় করবে।

আশিক চৌধুরী আরও যোগ করেন, “এই আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের র‍্যাঙ্কিং উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এটি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির একটি বলিষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেদারল্যান্ডসের এপিএম টার্মিনালসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। লালদিয়া টার্মিনাল কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি দেশের বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করে তোলার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts