.
অন্যান্য

হামলার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন! দেশজুড়ে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, বিপাকে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী | BD School News

Email :95

৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি রাত ২:১১ বুধবার বর্ষাকাল

আজ রবিবারের সকালটা চট্টগ্রামের স্কুলগুলোর জন্য অন্যরকম ছিল। ঘণ্টার শব্দ নেই, নেই শিশুদের কোলাহল। স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে আসা উচ্ছল মুখগুলো কিছুক্ষণের মধ্যেই মলিন হয়ে গেল, যখন তারা জানতে পারল—আজ ক্লাসরুমের দরজা তাদের জন্য বন্ধ। এটি কোনো আকস্মিক ছুটি নয়, বরং শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ের এক নীরব কিন্তু জোরালো প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি।


শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এই কর্মসূচির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থায়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী।

রবিবার সকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এক অচেনা দৃশ্য। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও শিক্ষকরা ক্লাসে যোগ দেননি। ফলে, পাঠদান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে, কেউ কেউ বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলাধুলা করে সময় কাটিয়ে অবশেষে অভিভাবকদের হাত ধরে বাড়ির পথ ধরেছে। তাদের চোখে-মুখে ছিল হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, এই কর্মবিরতি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ নয়, বরং এটি শিক্ষক সমাজ তথা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপানো ‘নির্যাতনের’ বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত অবস্থান। তাদের দাবি חד משמעית—যতদিন পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হবে এবং সুনির্দিষ্ট দাবি আদায় না হবে, ততদিন শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না তারা।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাদের দাবি যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার যে ক্ষতি হচ্ছে, তার দায় কে নেবে? আমরা একটি দ্রুত ও সম্মানজনক সমাধান চাই।” তার এই কথাটিই যেন চট্টগ্রামের হাজারো অভিভাবকের মনের কথা।

ফলে, একদিকে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের দৃঢ় অবস্থান এবং অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে এক জটিল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই সংকট সমাধানের পথ কী এবং কত দ্রুত ক্লাসরুমে শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, সেই উত্তরই এখন খুঁজছে চট্টগ্রামের উদ্বিগ্ন সমাজ। আপাতত, স্কুল প্রাঙ্গণগুলো নীরব থাকলেও শিক্ষকদের প্রতিবাদের স্বর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts