.
খেলা

লিভারপুল-রিয়াল মাদ্রিদ মহারণের আগে নাটকীয়তায় ভরা দলবদল ও ইনজুরির গল্প

Email :98

১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি রাত ৮:৫৩ সোমবার শরৎকাল

ফুটবল কখনও কখনও চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে আগামী ৪ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে অ্যানফিল্ডে যা হতে চলেছে, তা যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ। যখন লিভারপুলের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পথে থাকা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে নিজের পুরনো দুর্গেই খেলতে নামবেন, তখন আবেগ, কৌশল আর লড়াইয়ের এক অন্যরকম অধ্যায় লেখা হবে। তবে এই নাটকের একমাত্র চরিত্র আর্নল্ড নন; দুই শিবিরেই ইনজুরির কালো মেঘ এমনভাবে ঘনিয়েছে যে, এই ম্যাচটি এখন তারকাদের অনুপস্থিতির চেয়ে ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লিভারপুল বস ইয়ুর্গেন ক্লপের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। দলের প্রধান গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার এবং ডিফেন্ডার জেরেমি ফ্রিংপংয়ের ছিটকে যাওয়াটা বড় ধাক্কা। সেই সাথে আলেকজান্ডার ইসাক ও কার্টিস জোন্সের খেলা নিয়েও রয়েছে গভীর সংশয়। এই অবস্থায় ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজাতে পারেন ক্লপ। গোলপোস্টের নিচে জর্জিয়ান গোলরক্ষক মামারদাশভিলির অভিষেক হতে পারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এমন এক হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ ফন ডাইক ও কোনাতে থাকলেও, তাদের পাশে কনর ব্র্যাডলি এবং মিলোস কেরকেজের ওপর থাকবে গুরুদায়িত্ব। মাঝমাঠে গ্র্যাভেনবার্চ ও ম্যাক অ্যালিস্টারের বোঝাপড়া হবে দলের ইঞ্জিন। আর আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহর অভিজ্ঞতার সাথে সোবোসলাই ও গাকপোর তারুণ্যকে মিলিয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে হুগো একিতিকেকে বাজিয়ে দেখতে পারেন ক্লপ।

রিয়ালের সাদা দুর্গেও চিন্তার ছাপ, ভরসা আর্নল্ড ও এমবাপ্পে

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থা আরও সঙ্গীন। দলের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত চারজন—অধিনায়ক দানি কারভাহাল, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রুডিগার ও আলাবা এবং মাঝমাঠের শিল্পী লুকা মদ্রিচ— থাকছেন মাঠের বাইরে। তবে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে একটি নাম—ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড। কারভাহালের জায়গায় রাইট-ব্যাক হিসেবে তার খেলা প্রায় নিশ্চিত, যা অ্যানফিল্ডের দর্শকদের জন্য হবে এক আবেগঘন মুহূর্ত। ৪-৩-৩ ফরমেশনে কোচ আনচেলত্তি মিলিতাওয়ের সাথে তরুণ ডেইভারসন হুইজেনকে নামিয়ে রক্ষণভাগ সামলানোর ঝুঁকি নিতে পারেন। মাঝমাঠে বেলিংহাম ও চুয়ামেনির সাথে আর্দা গুলারের মতো তরুণ প্রতিভার ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব। তবে রিয়ালের মূল শক্তি তাদের আক্রমণভাগ, যেখানে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সাথে যোগ দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তরুণ আর্জেন্টাইন বিস্ময় ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুনো। এমবাপ্পের গতি আর গোল করার ক্ষমতাই হতে পারে মাদ্রিদের তুরুপের তাস।

কৌশল, আবেগ আর প্রতিশোধের রাত

লিভারপুল তাদের সাম্প্রতিক প্রিমিয়ার লিগ জয় এবং অ্যানফিল্ডে মাদ্রিদের বিপক্ষে আগের ২-০ গোলের জয় থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজবে। অন্যদিকে, ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদও আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। একদিকে অভিজ্ঞ সালাহ, অন্যদিকে গতির দানব এমবাপ্পে—কার পা থেকে আসবে জয়সূচক গোল?

এই ফুটবলীয় নাটকের শেষ দৃশ্যে অ্যানফিল্ডের সবুজ গালিচায় শেষ হাসি হাসবে কারা? ক্লপের আহত লিভারপুল, নাকি তাদেরই ঘরের ছেলের নতুন দল রিয়াল মাদ্রিদ? উত্তর মিলবে সেই রাতে, যখন ৯০ মিনিটের যুদ্ধ ঠিক করে দেবে ইউরোপের সেরা হওয়ার দৌড়ে কারা এগিয়ে থাকবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts