১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ভোর ৫:৩৯ বৃহস্পতিবার শীতকাল
দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী বছর ফের অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আর এই সফরেই হয়তো ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাই শহর। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা’র। আর এই ঐতিহাসিক ভেন্যুর প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

কুইন্সল্যান্ডের প্রিমিয়ার ডেভিড ক্রিসাফুলি বিষয়টি নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি এক প্রকার নিশ্চিত করেই জানিয়েছেন, অ্যাশেজ সিরিজের পরপরই যে টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে, তা আয়োজনের জন্য ম্যাকাই সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম ব্রিসবেনের গ্যাবায় কোনো গ্রীষ্মকালীন টেস্ট হচ্ছে না। তবে আমরা টেস্ট আয়োজন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি না। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে।’
২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর বাংলাদেশ কেবল একবারই, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল। সেবারও সিডনি বা মেলবোর্নের মতো ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুর বদলে খেলা হয়েছিল ডারউইন ও কেয়ার্নসে। ২৩ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে শীতের প্রকোপ থাকায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) খেলাগুলোকে উত্তরাঞ্চলি উষ্ণ ভেন্যুতে সরিয়ে নিতে চায়। সেই তালিকায় ডারউইন ও টাউনসভিলের পাশাপাশি এবার সবচেয়ে এগিয়ে আছে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা।
ম্যাকাইকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে গড়ে তুলতে কোনো কার্পণ্য করেনি স্থানীয় সরকার। ইতিমধ্যে সেখানে ২০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারি, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থা।
২০২৬-২৭ মৌসুমটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্য কিছুটা ব্যতিক্রমী হতে যাচ্ছে। ১৯৭৬-৭৭ সালের পর এই প্রথম গ্রীষ্মকালীন সূচিতে ব্রিসবেনের গ্যাবায় কোনো টেস্ট থাকছে না। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচগুলো পার্থ, অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে। গ্যাবার এই শূন্যতা পূরণ করতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি ম্যাকাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সিএ।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, ধারণা করা হচ্ছে—আগামী আগস্টে এই নতুন মাঠেই অজিদের আতিথ্য গ্রহণ করবে টাইগাররা।
Analysis | Habibur Rahman