১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৫২ বৃহস্পতিবার শীতকাল
ক্রিকেট মাঠে এমন নাটকীয়তা সচরাচর দেখা যায় না। নিশ্চিত জয়ের ম্যাচটি অধিনায়কের এক মুহূর্তে ভুলে টাই হলো, আবার সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হলো সুপার ওভারে বোলারদের অবিশ্বাস্য জাদুতে। শুক্রবার কাতারের দোহায় এসিসি মেন্স ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনার শেষে ভারত ‘এ’ দলকে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। মূল ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে ভারতকে মাত্র ২ বলে ‘অলআউট’ করে ইতিহাস গড়েছে আকবর আলীর দল।
মূল ম্যাচের নাটকীয় শেষ ওভার
ওয়েস্ট এন্ড পার্ক স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে হাবিবুর রহমান সোহানের ৬৫ ও মেহরবের অপরাজিত ৪৮ রানের সুবাদে ১৯৪ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে ভারতও পাল্লা দিয়ে লড়ছিল। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। রকিবুল হাসানের সেই ওভারে শেষ বলে সমীকরণে দাঁড়ায় ৩ রান (টাই করার জন্য)। ভারতের ব্যাটার বল লং-অনের দিকে ঠেলে দিয়ে ২ রান নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উইকেটরক্ষক ও অধিন��য়ক আকবর আলী বল হাতে পেয়ে অযথা স্টাম্পে ছুড়ে মারতে গিয়ে মিস করেন। কোনো ব্যাকআপ না থাকায় ভারত তৃতীয় রানটি নিয়ে নেয় এবং স্কোর ১৯৪-এ সমান হয়ে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
রিপন মন্ডলের ‘ম্যাজিক’ সুপার ওভার
ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। কিন্তু সেখানে যা ঘটলো, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশের পেসার রিপন মন্ডল প্রথম বলেই ভারতের অধিনায়ক জীতেশ শর্মাকে ক্লিন বোল্ড করেন। পরের বলেই আশুতোষ শর্মাকে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। নিয়মানুযায়ী সুপার ওভারে ২ উইকেট পড়লে ইনিংস সমাপ্ত হয়। ফলে ভারত তাদের সুপার ওভারে কোনো রানই তুলতে পারেনি (০/২)।
১ রানের লক্ষ্যেও রোমাঞ্চ
জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। কিন্তু নাটকের তখনো বাকি ছিল। ভারতের সুয়াশ শর্মার প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান বাংলাদেশের ইয়াসির আলী। তবে দ্বিতীয় বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে ওয়াইড হলে, সেই অতিরিক্ত রান থেকেই আসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়।
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে হাফ ছেড়ে বাঁচেন অধিনায়ক আকবর আলী। শেষ বলের ভুল স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি জানি না ওই মুহূর্তে আমার মাথায় কী চলছিল, আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। তবে সুপার ওভারে বোলাররা যেভাবে দায়িত্ব নিয়েছে, বিশেষ করে রিপন—তা অবিশ্বাস্য।” অন্যদিকে ভারতের অধিনায়ক জীতেশ শর্মা হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বলেন, “সিনিয়র হিসেবে আমার ম্যাচ শেষ করে আসা উচিত ছিল। তবে ছেলেরা দারুণ লড়াই করেছে।”
ব্যাট হাতে ভারতের লাগাম টেনে ধরা এবং সুপার ওভারে জোড়া আঘাত হানা রিপন মন্ডল ম্যাচসেরার পুরস্কার পান। আগামী ফাইনালে শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ‘এ’: ১৯৪/৬ (২০ ওভার) | সোহান ৬৫, মেহরব ৪৮*
ভারত ‘এ’: ১৯৪/৬ (২০ ওভার) | ম্যাচ টাই
সুপার ওভার: ভারত ০/২ (০.২ ওভার) | বাংলাদেশ ১/১ (০.১ ওভার)
ফল: সুপার ওভারে বাংলাদেশ ‘এ’ দল জয়ী।
Analysis | Habibur Rahman


