.
অন্যান্য

রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনই হবে অগ্রাধিকার: মির্জা ফখরুল

Email :64

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৬ সোমবার বসন্তকাল

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির ৩১ দফার অঙ্গীকারেই স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং দলটি তা বাস্তবে রূপ দিতে চায়।

সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজেসির সদস্যসচিব ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চালনায় ও চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। আমরা ৩১ দফায় দ্ব্যর্থহীনভাবেই বলেছি, একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন গণমাধ্যম দেখতে চাই এবং সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করব। যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পাই, তবে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংস্কার কেবল কাগজে-কলমে হলে চলবে না, তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। মন থেকে পরিবর্তন না চাইলে প্রকৃত সংস্কার অসম্ভব।

অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে যখন সব পত্রিকা বন্ধ করে চারটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল, তখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, গণমাধ্যমের বিকাশে কাজ করেছে।

সাংবাদিকতার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও দলীয়করণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কাউকে পকেটে পুরতে চায় না, কিন্তু সাংবাদিকরাই যদি স্বেচ্ছায় দলের পকেটে ঢুকে যান, তবে তা বড় সংকটের সৃষ্টি করে। গত দেড় দশকে অনেক সাংবাদিক স্বউদ্যোগে ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করেছেন।’ সাংবাদিকদের দলীয় বৃত্তের বাইরে এসে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিজেসির পক্ষ থেকে সম্প্রচার মাধ্যমের সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সম্প্রচার আইন প্রণয়ন, স্বাধীন জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠন, টিভি চ্যানেলকে পে-চ্যানেল ও শিল্প হিসেবে ঘোষণা এবং সাংবাদিকদের জন্য জবাবদিহিমূলক আচরণবিধি প্রণয়ন অন্যতম।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা। বক্তারা বিজেসির প্রস্তাবনাগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিজেসির নির্বাহী মিলটন আনোয়ার। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সহায়তায় আয়োজিত এই সভায় দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

Analysis | Habibur Rahman

বিজেসি আয়োজিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরছবি: প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts