১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৮:২৫ সোমবার বসন্তকাল
দেশের রাজনীতি থেকে তোষামদি, ধোঁকাবাজি এবং লুটপাটের সংস্কৃতি দূর করে সেবামূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে। জামায়াত দেশের মালিক হতে আসে নেই, বরং জনগণের প্রকৃত সেবক হতে চায়।
মঙ্গলবার (…তারিখ…) রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে হুশিয়ারি
সমাবেশে জামায়াত আমির বিগত সময়ের দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ারবাজার লুটপাট কিংবা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার রাজনীতি করতে আসিনি। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—আমরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দেশের মালিক সাজতে চাই না, আমরা এ দেশের মানুষের খাদেম বা সেবক হতে চাই।’
৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপট ও সম্প্রীতি
বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও দুঃখকষ্টের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে পটপরিবর্তনের পর প্রতিহিংসার পথে না হেঁটে তারা সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে গিয়েছি। তাদের আশ্বস্ত করেছি এবং সাহস জুগিয়েছি। আমরা প্রমাণ করতে চাই, এ দেশে সবার অধিকার সমান এবং সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী।’
অতীতকে ক্ষমা ও আগামীর বাংলাদেশ
দলের ওপর অতীতে হয়ে যাওয়া নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অতীতে যা কিছু হয়েছে, দলের পক্ষ থেকে আমরা তা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমরা কথা দিয়েছিলাম এবং সেই কথা রেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি হিংসামুক্ত ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে তারা বদ্ধপরিকর। কোনো জালিমকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রার্থীর পরিচয় ও জনতার ঢল
বক্তৃতার এক পর্যায়ে জামায়াত আমির গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদের হাত উঁচিয়ে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আমি তাঁর হাতটি উঁচু করে ধরলাম, আপনারাও আগামীর জন্য তাঁর পক্ষে লড়াই করবেন।’
নিরাপত্তা ও জনসমাগম
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এই পথসভা অনুষ্ঠিত হলেও, সন্ধ্যা থেকেই মুকসুদপুর কলেজ মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা সমবেত হতে থাকেন। জামায়াত আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তাব্যবস্থা।
Analysis | Habibur Rahman