১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৪৬ সোমবার বসন্তকাল
বাংলা পঞ্জিকার পাতায় এখন মাঘ মাস। গ্রামবাংলার চিরায়ত প্রবাদ রয়েছে—‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়’। অর্থাৎ এই সময়ে হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে থাকার কথা জনজীবন। অথচ প্রকৃতির খেয়ালে মাঘের শুরুতেই দেখা মিলছে ভিন্ন চিত্রের। শীতের তীব্রতা কমার পাশাপাশি দেশজুড়ে তাপমাত্রার পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী। এমতাবস্থায় জনমনে প্রশ্ন—এ মাসে কি আর শৈত্যপ্রবাহের দেখা পাওয়া যাবে, নাকি শীত এবার বিদায়ের পথে?

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারাদেশে সার্বিকভাবে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশের তিনটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও আজ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তেঁতুলিয়ায় ৯ ডিগ্রি, তবুও কেন শৈত্যপ্রবাহ নেই?
শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেখানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।
সেই হিসেবে তেঁতুলিয়ায় শৈত্যপ্রবাহ থাকার কথা। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করেনি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করতে হলে তা একটি বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে হতে হয়। আজ কেবল দেশের একটি নির্দিষ্ট ‘পকেট’ বা বিচ্ছিন্ন এলাকায় (তেঁতুলিয়া) তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমেছে। এভাবে বিচ্ছিন্ন কোনো স্থানের তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করা হয় না।
আগামী দিনগুলোর পূর্বাভাস
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই দিন তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই; এটি মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে এরপর থেকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ আসার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
শীত কি তবে বিদায় নিচ্ছে?
জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও এখনই শীত পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে—এমনটা ভাবা ভুল হবে। আবহাওয়াবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন আবহাওয়ার অতীত ইতিহাসের কথা। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসেও তীব্র শীত জেঁকে বসার নজির রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক রেকর্ড বলছে, দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসেই। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জানুয়ারির বাকি সময়ে শৈত্যপ্রবাহ অনিশ্চিত হলেও ফেব্রুয়ারিতে যে নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ হবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।’
সব মিলিয়ে, মাঘের শুরুতে প্রকৃতির আচরণ কিছুটা উষ্ণ হলেও শীতের আমেজ একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। আবহাওয়ার এই লুকোচুরির মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে শীত আবারও স্বরূপে ফিরবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
Analysis | Habibur Rahman