.
বাংলাদেশ

বিসিএস পেছানোর দাবিতে অনড় বাকৃবি শিক্ষার্থীরা: ৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ তিস্তা এক্সপ্রেস, যাত্রীদের চরমে ভোগান্তি

Email :36

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রাত ৯:১৯ সোমবার বসন্তকাল

৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ। ‘যৌক্তিক সময়ের’ দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’ আটকে দেন আন্দোলনকারীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রেনের শত শত যাত্রী।

বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল শিক্ষার্থী। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আবদুল জব্বার মোড়সংলগ্ন রেললাইনেছবি: প্রথম আলো

রোববার বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা যায়, অবরোধ এখনো চলছে। শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁরা রেলপথ ছাড়বেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আবদুল জব্বার মোড়ে জড়ো হতে থাকেন চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে তাঁরা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন এবং তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে দেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মেহরাজ হাসান বলেন, ‘আমরা কেবল লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ন্যূনতম যৌক্তিক সময়টুকু চাইছি। পিএসসি যদি আমাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে স্বৈরাচারী আচরণ অব্যাহত রাখে, তবে আমাদের অবরোধও অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।’

এদিকে দীর্ঘ সময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় অবর্ণনীয় কষ্টের মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের অবস্থা শোচনীয়। ট্রেনের ‘চ’ বগিতে থাকা এক ষাটোর্ধ্ব দম্পতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ডায়াবেটিসের রোগী। ট্রেনটি মাটি থেকে অনেক উঁচুতে থাকায় নামতেও পারছি না। সাড়ে তিন ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থেকে পা ফুলে গেছে। শিক্ষার্থীরা সময়মতো পড়াশোনা না করে এখন মানুষকে জিম্মি করে আন্দোলন করছে, এটা আর সহ্য হচ্ছে না।’

আবদুল কাদির নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘দাবি যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষকে কেন শাস্তি পেতে হবে? আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে আটকে রাখা বিরক্তিকর।’ একপর্যায়ে ট্রেনের কিছু যাত্রী অতিষ্ঠ হয়ে নেমে এসে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম ও সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, তবে শিক্ষার্থীরা তাঁদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও বিসিএস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। তবে আমি আহ্বান জানাব, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে তারা যেন এখনই ট্রেনটি ছেড়ে দেয়।’

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts