১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:৪৮ বৃহস্পতিবার শীতকাল
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডে রোমাঞ্চ আর একঘেয়েমি—দুই চিত্রই দেখা গেল। একদিকে বোলারদের দাপট আর লো-স্কোরিং থ্রিলারে তিন দিনেই নিষ্পত্তি হলো দুটি ম্যাচের, অন্যদিকে বাকি দুই ভেন্যুতে ব্যাটারদের দাপটে ম্যাচ গড়াচ্ছে ড্রয়ের পথে। তবে দিনশেষে সব আলো কেড়ে নিলেন অনেক দিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। তার দায়িত্বশীল ফিফটিতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছেছে রংপুর বিভাগ। অন্যদিকে পেসার আবু জায়েদ রাহীর বোলিং তোপে হাসল সিলেট।
রাজশাহী শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য রংপুরের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৩০ রান। আপাতদৃষ্টিতে সহজ লক্ষ্য মনে হলেও রাজশাহীর বোলারদের তোপে একপর্যায়ে ৫৯ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল রংপুর। হারের শঙ্কায় যখন দল কাঁপছে, তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হন নাসির হোসেন।

২০১৮ সালের পর আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে না জড়ালেও অভিজ্ঞতার ঝুলিটা যে শূন্য হয়নি, তা প্রমাণ করলেন নাসির। তানভীর হায়দারকে সঙ্গে নিয়ে গড়লেন অবিচ্ছিন্ন ৭৩ রানের ম্যাচজয়ী জুটি। নাসিরের ব্যাট থেকে এলো মহামূল্যবান ফিফটি। মূলত বোলাররাই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। ১০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা রাজশাহীকে মেহেদী হাসান, রবিউল হক ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বোলিং তোপে মাত্র ১১৯ রানেই গুটিয়ে দেয় রংপুর। মেহেদী ৪টি এবং রবিউল ও মুগ্ধ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
সিলেটের জয়ে নায়ক পেসার আবু জায়েদ রাহী। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে তিনি একাই তুলে নিয়েছেন ৯টি উইকেট। তার বিধ্বংসী বোলিংয়েই তিন দিনের মধ্যে জয় নিশ্চিত করে সিলেট বিভাগ।
সাগরপাড়ের কক্সবাজারে বরিশালের বিপক্ষে বেশ বিপাকে ঢাকা বিভাগ। তৃতীয় দিন শেষে ঢাকার লিড মাত্র ৫৬ রানের, হাতে আছে ৫ উইকেট। এর আগে সুমন খানের ৪ উইকেটের পরেও তাসামুল হক ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ফিফটিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৪১ রান তোলে বরিশাল। ৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তুলেছে ঢাকা। হারের শঙ্কা নিয়ে আজ শেষ দিনে মাঠে নামবে তারা।
বগুড়ায় খুলনা ও ময়মনসিংহের ম্যাচটি নিশ্চিত ড্রয়ের পথে হাঁটছে। সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরিতে খুলনার করা ৩৮৭ রানের জবাবে ময়মনসিংহও সমানে পাল্লা দিয়েছে। দলটির কোনো ব্যাটার তিন অঙ্কের দেখা না পেলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঠিক ৩৮৭ রানেই দিন শেষ করেছে তারা, হাতে এখনো ৩ উইকেট।
ময়মনসিংহের ইনিংসে দেখা গেছে ফিফটির মেলা। মোহাম্মদ নাঈম, আজিজুল হাকিম ও আব্দুল মজিদের পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন আল আমিন জুনিয়র ও আরিফ আহমেদ। দিন শেষে আল আমিন ৬২ ও আরিফ ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন। শেষ দিনে নাটকীয় কিছু না ঘটলে এই ম্যাচ থেকে ফল আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
Analysis | Habibur Rahman