.
আন্তর্জাতিক

দুবাই এয়ার শো-তে বড় দুর্ঘটনা! ধ্বংস ভারতের তেজস যুদ্ধবিমান, নিহত পাইলট | IAF Tejas Crash

Email :33

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:১২ সোমবার বসন্তকাল

দুবাই এয়ার শোর উৎসবমুখর পরিবেশ নিমেষেই রূপ নিল গভীর শোকে। ২১ নভেম্বর, ২০২৫—শুক্রবার দুপুরে আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হাজারো দর্শকের চোখের সামনেই আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হলো ভারতীয় বিমান বাহিনীর গর্ব ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানটির দক্ষ পাইলট। আন্তর্জাতিক কোনো প্রদর্শনীতে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিমানের এটিই প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।


স্থানীয় সময় তখন দুপুর ২টা ১০ মিনিট। আকাশে নিজের ক্ষিপ্রতা ও শক্তিমত্তা প্রদর্শন করছিল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) তেজস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি জটিল আকাশ-কসরত বা ম্যানুভার প্রদর্শনের সময় হঠাৎই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এটি সোজা মাটির দিকে ‘নোজডাইভ’ দেয় এবং রানওয়ের অদূরে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা।


ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) প্রাথমিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সংঘর্ষের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে পাইলট ‘ইজেক্ট’ করার বা প্যারাসুট নিয়ে বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগই পাননি। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। দুবাইয়ের জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুততম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এই প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পর শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় উপস্থিত জনতা, যার মধ্যে অনেক নারী ও শিশুও ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এয়ার শোর কার্যক্রম প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।


ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নের প্রতীক হিসেবে ধরা হয় তেজসকে। বিশ্ববাজারে এই যুদ্ধবিমানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে দুবাই এয়ার শো ছিল একটি বড় মঞ্চ। কিন্তু ২০২৪ সালে ভারতে ঘটা একটি দুর্ঘটনার পর, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই দ্বিতীয় ক্র্যাশটি তেজস প্রকল্পের জন্য বড়সড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সমর বিশ্লেষকরা।

ভারতীয় বিমান বাহিনী এই ঘটনাকে ‘গভীর দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে নিহত পাইলটের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ঠিক কী কারণে—যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি মানবিক ভুল—এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের ‘কোর্ট অফ ইনকোয়ারি’র নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts