১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৭:০৫ বৃহস্পতিবার শীতকাল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ নূরুল কবির। রোববার (আজ) দুপুরে স্থানীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন। একইসাথে তিনি আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত
রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে শাহ্ নূরুল কবির উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার এই পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই ডাকযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ জেলা শাখা (উত্তর) এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে ‘ব্যক্তিগত অসুবিধা’র কারণ দেখিয়ে তিনি আজ থেকে দলের সব ধরনের পদ-পদবি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ আসন থেকে ধানের শীষের টিকিট চেয়েছিলেন শাহ্ নূরুল কবির। তবে দল থেকে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদকে মনোনীত করা হয়। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের পথ বেছে নেন।
এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ ডিসেম্বর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কারণে দল থেকে পদত্যাগ করেছি এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিচয়
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার কাঁকনহাটি গ্রামের বাসিন্দা শাহ্ নূরুল কবির এই অঞ্চলের রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় দলের সাথে যুক্ত থাকার পর, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তার এই পদত্যাগ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে এবং আসন্ন ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে, মূল দল থেকে সাবেক এই এমপির সরে যাওয়ায় ময়মনসিংহ-৮ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদের সাথে তার নির্বাচনী লড়াই বেশ জমে উঠবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
Analysis | Habibur Rahman
