.
জাতীয়

চর দখলের লড়াইয়ে ঝরল ৫ প্রাণ, আহত একাধিক

Email :38

৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ৮:২০ বুধবার শীতকাল

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের মালিকানা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (আজ) সকালে উপজেলার সুখচর ইউনিয়ন সংলগ্ন ‘জাগলার চরে’ বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নিহতের সংখ্যা পাঁচজন বলে নিশ্চিত করলেও স্থানীয় কিছু সূত্রের দাবি, নিহতের সংখ্যা ছয় হতে পারে।

হাতিয়া থানাছবি: সংগৃহীত

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা নতুন চর ‘জাগলার চর’-এর বিস্তীর্ণ খাসজমির দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় দুটি প্রভাবশালী বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিবাদমান গ্রুপ দুটি হলো ‘কোপা সামছু’ (সামছুদ্দিন) গ্রুপ এবং ‘আলাউদ্দিন বাহিনী’। এর আগেও চরের জমি নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সেই বিরোধের জেরে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। একপর্যায়ে শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন হতাহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে দুই বাহিনীর প্রধানসহ মোট পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।

দুর্গম জনপদ ও উদ্ধার তৎপরতা
ঘটনাস্থলটি হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বেশ দূরে এবং যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে সকালে গোলাগুলি শুরু হলেও মূল ভূখণ্ডে খবর পৌঁছাতে দুপুর গড়িয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হাতিয়া থানা পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা ট্রলারযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

নিহতদের মধ্যে ‘আলাউদ্দিন’ নামের একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিকেলে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে বাকি চারজনের মরদেহ সন্ধ্যা পর্যন্ত জাগলার চরেই পড়ে ছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ লাশগুলো উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। নিহত ও আহতদের বিস্তারিত পরিচয় সংগ্রহের পর অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনও ৫ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সন্ধ্যার পর পর্যন্ত চরের পরিস্থিতি থমথমে ছিল এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts