১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৮:২৫ সোমবার বসন্তকাল
রাজধানীর অভিজাত এলাকার সমান কর দিয়েও কেন তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক সুবিধা পাবেন খিলগাঁও-মুগদাবাসী? এমন প্রশ্ন তুলে এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ নিয়ে হাজির হয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রধান ছয়টি সমস্যা বা ‘রোগ’ চিহ্নিত করে তার সুনির্দিষ্ট সমাধানের ‘প্রেসক্রিপশন’ বা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন এই চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিবিদ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া তাসনিম জারা। শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি তার এই নির্বাচনী অঙ্গীকারনামা প্রকাশ করেন।
‘আমি অতিথি পাখি নই, আপনাদের ঘরের মেয়ে’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের অগ্রভাগে থাকা তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। দক্ষিণ গোড়ানের বাগানবাড়ি বাজার এলাকায় প্রচারণার সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তিনি গতানুগতিক কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। তার ভাষায়, “আমি অতিথি পাখি নই যে ভোট নিয়ে উধাও হয়ে যাব। আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। এই এলাকার প্রতিটি ধুলোবালি ও সমস্যার সাথে আমার পরিচয়। আপনাদের সঙ্গেই আমার চুক্তি।”
তাসনিম জারার চিহ্নিত ৬ সমস্যা ও সমাধানের পথ
খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা ও মান্ডা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনকে বাসযোগ্য করতে ইশতেহারে মোট ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর জোর দিয়েছেন তাসনিম জারা। সমস্যাগুলোকে তিনি চিকিৎসকের দৃষ্টিভঙ্গিতে ‘রোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তার সমাধানের পথ বাতলে দিয়েছেন:
১. নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন: গ্যাস সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তার অঙ্গীকার, এই এলাকাকে তিনি সত্যিকারের বাসযোগ্য করে গড়ে তুলবেন।
২. স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন: চিকিৎসায় কোনো প্রকার অবহেলা বরদাস্ত না করার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা দিয়েছেন।
৩. মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ: এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূল করে রাস্তাঘাটে জনগণের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
৪. শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
৫. অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান: ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য সমান অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
৬. জনপ্রতিনিধরি জবাবদিহিতা: নির্বাচিত হলে এমপাস হিসেবে তার কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা সচরাচর দেখা যায় না।
‘সমান কর দিই, অধিকারও সমান চাই’
ইশতেহার প্রকাশকালে তাসনিম জারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা-৯ আসনের বাসিন্দাদের রাষ্ট্র অনেকটা ‘এটিএম মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তার মতে, “আমরা গুলশান-ব��ানীর বাসিন্দাদের সমান কর দিই, ইউটিলিটি বিল দিই; কিন্তু বিনিময়ে সেবা পাই অত্যন্ত নিম্নমানের। ভোটের সময় নেতারা এসে মিষ্টি কথা বলে ভোট নেন, কিন্তু বিপদে তাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় না। এই বিমাতাসুলভ আচরণের দিন এবার শেষ হবে।”
কেন তাকে ভোট দেবেন?
ভোটারদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়ে ডা. জারা বলেন, আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন। কারণ, একজন ডাক্তারই জানেন শরীরের কোথায় রোগ বাসা বেঁধেছে এবং তার সঠিক ওষুধ কোনটি।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ গড়ার যে সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগাতেই আমার এই সংগ্রাম। আমার ইশতেহার কোনো ফাঁকা বুলি নয়, এটি আপনাদের ভাগ্য বদলানোর রূপরেখা। আপনারা আমার শক্তি হোন, কথা দিচ্ছি—আপনাদের মাথা নত হতে দেব না।”
আসন্ন নির্বাচনে ফুটবল মার্কায় ভোট চেয়ে তাসনিম জারা ভোটারদের আহ্বান জানান, যেন তারা গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে এসে একজন শিক্ষিত ও যোগ্য সন্তানকে সেবা করার সুযোগ দেন।
Analysis | Habibur Rahman