১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৫৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল
একদিকে থাইল্যান্ডের ঝলমলে মঞ্চ, যেখানে ১২১টি দেশের সুন্দরীদের সঙ্গে চলছে সেরাদের সেরা হওয়ার প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে নিজ দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যেখানে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়। এই দুই ভিন্ন রণাঙ্গনে যেন একাই লড়ছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলা। বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে জেতানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি যখন প্রতিটি পর্বে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই বিকিনি পরাকে কেন্দ্র করে দেশের এক শ্রেণির মানুষের কটাক্ষ তাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করছে।
ঘটনার সূত্রপাত মিস ইউনিভার্সের সুইমস্যুট রাউন্ডকে ঘিরে। প্রতিযোগিতার এই বাধ্যতামূলক পর্বে বিকিনি পরিহিত মিথিলার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। কিন্তু এই বিতর্ক যখন চলছে, তখন মিথিলা এক ভিডিও বার্তায় কান্নাভেজা কণ্ঠে যে আকুতি জানিয়েছেন, তা অনেককেই নতুন করে ভাবাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “আমি যদি বিকিনি না পরি, তাহলে সেরা ৩০ জনের তালিকাতেই জায়গা পাবো না। বাংলাদেশকে জেতাতে হলে আমাকে এই নিয়ম মানতেই হবে। এর সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, এটা প্রতিযোগিতারই একটি অংশ।”
তার এই বক্তব্য কেবল একটি আত্মপক্ষ সমর্থন নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কঠিন বাস্তবতা। মিস ইউনিভার্সের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাস, শারীরিক ফিটনেস এবং মঞ্চে সাবলীল বিচরণের অন্যতম মাপকাঠি হলো এই সুইমস্যুট পর্ব। এই পর্ব এড়িয়ে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
তবে এই বিতর্কের মুদ্রার অপর পিঠও রয়েছে, যা হয়তো অনেকেই খেয়াল করছেন না। সমালোচনার আড়ালে নীরবে ইতিহাস গড়ছেন মিথিলা। পিপলস চয়েস ভোটে তিনি এই মুহূর্তে বিশ্বের ১২১ জন প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি অভাবনীয় সাফল্য। শুধু তাই নয়, ‘বেস্ট ন্যাশনাল কস্টিউম’ বা সেরা জাতীয় পোশাকের বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। এছাড়াও মিস কনজেনিয়ালিটি এবং সেরা সান্ধ্য পোশাক (ইভিনিং গাউন) বিভাগে দ্বিতীয় এবং সেরা ত্বক (বেস্ট স্কিন) বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি কেবল বিতর্কের উপাদান নন, একজন শক্তিশালী প্রতিযোগী।
২০১৯ সালে একাধিক আন্তর্জাতিক খেতাবজয়ী এই মডেল ও অভিনেত্রী যখন দেশের জন্য এতগুলো সম্মান বয়ে আনছেন, তখন তার পোশাকের চেয়ে অর্জনগুলো কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়? মিথিলার হতাশা সেখানেই। তার কথায়, “অন্য দেশের মানুষ আমাকে নিয়ে সমালোচনা করলে গায়ে লাগে না, কিন্তু আমার দেশের মানুষ যখন আমার কষ্টটা না বুঝে কথা বলে, তখন সেটা মেনে নেওয়া কঠিন।”
আগামী ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৭৪তম মিস ইউনিভার্সের গ্র্যান্ড ফিনালে। একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশকে জেতানোর চাপ, অন্যদিকে দেশের মানুষের সমালোচনার বোঝা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মিথিলা কি পারবেন শেষ হাসি হাসতে? তার এই লড়াই কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নয়, বরং প্রচলিত ধারণা ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার মাঝে এক সেতুবন্ধনেরও লড়াই।
Analysis | Habibur Rahman


