১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৪৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনই নয়, বরং রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে ভোটারদের হাতে। সাবেক নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সতর্ক করে বলেছেন, সংস্কার প্রস্তাবনায় জনগণের সমর্থন বা ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত না হলে দেশ আবারও পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার পথ রুদ্ধ করা কঠিন হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে সুজন।
ড. মজুমদার তার বক্তব্যে জাতীয় জুলাই সনদের বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের দিনই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোটের বিধান থাকবে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন। ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়া মানেই হলো রাষ্ট্র সংস্কারের রায় দেওয়া। আর যদি ‘না’ জয়ী হয়, তবে সংস্কার হবে না এবং আমরা আগের অবস্থাতেই থেকে যাব।”
গণ-অভ্যুত্থানের তিনটি মূল আকাঙ্ক্ষা—সুষ্ঠু নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন সুজন সম্পাদক। তিনি বলেন, শুধু একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের নিশ্চয়তা দেয় না। এর জন্য প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী সংস্কার, যা জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তিনি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা, নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বন্ধ করা এবং দুর্বৃত্তায়ন মোকাবিলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে এবং দলের ভেতর থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। এছাড়া মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও মানসম্মত শিক্ষা, এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণফোরাম, গণ-অধিকার পরিষদ, এলডিপি, এবং বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নে ঐকমত্য পোষণ করেন।
Analysis | Habibur Rahman
