.
বাংলাদেশ

না ফেরার দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া: শোকস্তব্ধ গোটা দেশ

Email :16

৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১১:৪৩ বুধবার শীতকাল

বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর এই বিদায়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর কারণ ও শেষ দিনগুলো
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই নেত্রী। এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, যকৃত (লিভার), কিডনি এবং হৃদযন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার সঙ্গে সম্প্রতি তাঁর ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এবং দলের উদ্যোগে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হলেও, শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক থাকায় ভ্রমণ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। অবশেষে চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার ভোরে তিনি জীবনের ইতি টানেন।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
সকালে বিএনপির মিডিয়া উইং এবং দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেশনেত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের প্রিয় নেত্রী, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।” এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্থান বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি। স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি বিএনপির হাল ধরেন। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বেই নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি মোট তিন মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

নেতা-কর্মীদের ভিড় ও শোক
মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক প্রবীণ ও তরুণ কর্মী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাসপাতালের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলমত নির্বিশেষে মানুষ শোক প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা শোকবার্তা পাঠিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজা ও দাফনের সময়সূচি খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ ও দৃঢ়চেতা অভিভাবককে হারাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts