.
রাজনীতি

কুমিল্লা-১ ও ২ সংসদীয় আসন সীমানায় নতুন মোড় হাইকোর্টের পুনর্বহালের রায় স্থগিত করলো আপিল বিভাগ

Email :2

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:০৮ বৃহস্পতিবার শীতকাল

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে কুমিল্লা-১ ও ২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে এক নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। আজ রবিবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত কুমিল্লা-১ ও ২ আসনকে তাদের পূর্বের সীমানায় পুনর্বহাল করার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন। এই আদেশের ফলে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে উল্লিখিত সীমানাই আপাতত বহাল থাকছে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে এই দুই আসনের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা দূর করেছে।

চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং কুমিল্লা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিনের পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। আগামী লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত থাকবে।

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় এবং তার প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে দাউদকান্দি-তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১ এবং হোমনা-মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসনকে তাদের মূল সীমানায় পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটের যে অংশে এই সীমানা পরিবর্তন করা হয়েছিল, তা ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হয়। হাইকোর্ট ইসিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্বের সীমানায় গেজেট প্রকাশেরও আদেশ দিয়েছিলেন।

সীমানা বিতর্কের সূত্রপাত:

মূলত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এক গেজেটের মাধ্যমে কুমিল্লা-১ ও ২ আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনে। এই নতুন বিন্যাসে কুমিল্লা-১ আসনকে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে এবং কুমিল্লা-২ আসনকে হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে গঠিত করা হয়। অথচ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কুমিল্লা-১ আসন দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা এবং কুমিল্লা-২ আসন হোমনা ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল।

নির্বাচন কমিশনের এই সীমানা পুনর্নির্ধারণকে চ্যালেঞ্জ করে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহি উদ্দিনসহ ছয়জন ব্যক্তি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে এই মামলায় কুমিল্লা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন এবং মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা এম এ মিজানুর নামে আরও দু’জন পক্ষভুক্ত হন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলকে যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন।

আপিল বিভাগে শুনানি ও রায় স্থগিতের কারণ:

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন জানান। আজ রবিবার চেম্বার আদালতে এই দুটি আবেদনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াী তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আবদুল্লাহ আল মামুন অংশ নেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আদেশ দেন।

তাৎক্ষণিক প্রভাব ও নির্বাচন প্রস্তুতি:

আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে, আপাতত নির্বাচন কমিশনের গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, কুমিল্লা-১ আসনে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা এবং কুমিল্লা-২ আসনে হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান নিশ্চিত করেছেন যে, চেম্বার আদালতের এই রায়ের পর বর্তমান সীমানা মেনেই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আইনগতভাবে কোনো সমস্যা নেই। এই আদেশের ফলে, নির্বাচন কমিশন তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দুটি আসনে নির্বাচন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts