১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৫২ বৃহস্পতিবার শীতকাল
ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিরাপদ ও পরিকল্পিত আবাসনের চাহিদা। ইট-পাথরের শহরে এক টুকরো শান্তির নীড় খুঁজে পেতে ক্রেতারা এখন কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং খুঁজছেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবেশ। ঠিক এই জায়গাটিতেই গত প্রায় দুই দশক ধরে আবাসন খাতে আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে ‘কম্প্রিহেনসিভ হোল্ডিংস লিমিটেড’।

কম্প্রিহেনসিভের একটি ভবনের গ্রাফিকস
২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই আবাসন প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই গুণগত মান বজায় রেখে নির্মাণকাজ পরিচালনা, নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রাহকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—দেশের প্রধান দুই শহরকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সাফল্যের পরিসংখ্যান ও চলমান কর্মযজ্ঞ
দীর্ঘ পথচলায় কম্প্রিহেনসিভ হোল্ডিংস এ পর্যন্ত ১১১টিরও বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে ৪২টির বেশি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স এবং সুবিশাল কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্ট।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (উদ্ভাবন ও পরিকল্পনা) কাজী সামসুল আলম বলেন, “আমরা কেবল ভবন নির্মাণ করছি না, বরং একটি টেকসই ও পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। প্রতিটি স্থাপনা নির্মাণে কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-এর নির্দেশাবলি।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, গ্রাহকের বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তর এবং নির্মাণে গুণগত মান বজায় রাখাকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে পরিবেশবান্ধব নকশার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য প্রকল্প ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
কম্প্রিহেনসিভ হোল্ডিংসের বর্তমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে অবস্থিত ‘কম্প্রিহেনসিভ আমিনাবাদ হাউজিং’। ৮৮.২৪ কাঠা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) অধীনে ‘লিড গ্রিন বিল্ডিং’ প্রোগ্রামে নিবন্ধিত এবং ইতোমধ্যে ‘লিড গোল্ড’ প্রিসার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের আবাসন খাতে পরিবেশ সচেতনতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মিরপুরের কাজীপাড়ায় ‘ভিক্টোরিয়াস পার্ক’, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ ব্লকে ‘প্যালেস ইনামোরি’ এবং ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত বাণিজ্যিক প্রকল্প ‘মোনার্ক সেন্টার’। প্রতিটি ভবনই ভূমিকম্পসহনশীল প্রযুক্তিতে এবং নান্দনিক নকশায় নির্মিত হচ্ছে।
আয়তন ও মূল্যসীমা
ক্রেতাদের চাহিদা ও সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন আকারের ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস রেখেছে কম্প্রিহেনসিভ। তাদের আবাসিক প্রকল্পগুলোতে ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ১৭৫ বর্গফুট থেকে শুরু করে ২ হাজার ৩৭০ বর্গফুট পর্যন্ত। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ইউনিটগুলোর আয়তন ৪ হাজার ৪০৭ থেকে ৮ হাজার ৮১৪ বর্গফুট পর্যন্ত বিস্তৃত।
প্রকল্পের অবস্থান ও সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে আবাসিক ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের প্রকল্পগুলোতে ফ্ল্যাট বিক্রির হার বর্তমানে অত্যন্ত সন্তোষজনক, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ।
আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের রেকর্ডের কারণে কম্প্রিহেনসিভ হোল্ডিংস লিমিটেড আবাসন খাতে একটি নির্ভরতার নাম হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিত নগরায়ণে তাদের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
Analysis | Habibur Rahman

