.
রাজনীতি

আই হ্যাভ আ প্ল্যান: তারেক রহমান

Email :14

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৪৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তাঁর বিখ্যাত ভাষণে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশের মাটিতে পা রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শোনালেন ভিন্ন এক বার্তা। তিনি বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়নের জন্য নিজের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতাও চাইলেন তিনি।

গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বরছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ সড়কে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর আগে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে জনসমুদ্র পাড়ি দিয়ে মঞ্চে পৌঁছাতে তাঁর সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি।

১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ও রাজসিক প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থান করার পর আজ বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। ভিআইপি লাউঞ্জে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পূর্বাচলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাঁকে বহনকারী বাসটি যখন বিমানবন্দর চত্বর ত্যাগ করে, তখন বাইরে অপেক্ষমাণ হাজারো নেতাকর্মীর উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙা। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা মঞ্চের দূরত্ব মাত্র সাত কিলোমিটার হলেও, নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে সেখানে পৌঁছাতে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট বেজে যায়। দীর্ঘ এই পথে বাসে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তিনি উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’—নতুন দিনের ঘোষণা
সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৬ মিনিটের বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেশের শান্তি চাই। আপনারা মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি—‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি আপনাদের বলতে চাই—‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। আমার এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের জন্য, আমার দেশের স্বার্থে।’’

তবে নিজের পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ না করলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘‘দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে আপনাদের প্রত্যেকের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন। আপনারা যদি পাশে থাকেন, তবেই ইনশাআল্লাহ আমরা এই ‘প্ল্যান’ বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হব।’’

শান্তি ও নিরাপত্তার অঙ্গীকার
বক্তব্যে তিনি যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা যে ধর্মের বা যে শ্রেণির মানুষই হই না কেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদ থাকে। শিশু, নারী, পুরুষ—যেকোনো বয়স বা পেশার মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে, এটাই হোক আমাদের চাওয়া। যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে।’’

ন্যায়পরায়ণতার শাসনে দেশ গড়ার ডাক
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। উপস্থিত জনতা ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি—আগামী দিনে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, আমরা সবাই নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’’

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই তারেক রহমানের এই বক্তব্য উপস্থিত জনতাসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ স্লোগানটি রাজনীতির মাঠে নতুন কী বার্তা নিয়ে আসছে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts