১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৪২ বৃহস্পতিবার শীতকাল
শুধু চার্জ দেওয়া নয় আধুনিক স্মার্টফোনগুলোর নিচের অংশে যে ছোট ও চ্যাপ্টা পোর্টটি দেখা যায়, তাকে আমরা ইউএসবি টাইপ-সি (USB Type-C) হিসেবেই চিনি। দৈনন্দিন জীবনে ফোনের ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে চার্জার কানেক্ট করা ছাড়া এই পোর্টটির দিকে খুব একটা নজর দেওয়া হয় না। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হওয়া এই পোর্টটি আসলে প্রযুক্তির এক দারুণ উদ্ভাবন? এটি তৈরি করা হয়েছিল একটি ‘ইউনিভার্সাল’ বা সর্বজনীন সংযোগ মাধ্যম হিসেবে, যা কেবল চার্জিংয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও বহুবিধ কাজ করতে সক্ষম।
আপনার পকেটের স্মার্টফোনটিতে থাকা এই পোর্টের এমন ৫টি ব্যবহার রয়েছে, যা হয়তো আপনার দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বদলে দেবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক চার্জিং ছাড়াও টাইপ-সি পোর্টের ৫টি কার্যকরী ব্যবহার।
১. স্মার্টফোন যখন পাওয়ার ব্যাংক (রিভার্স চার্জিং)
ফোনের চার্জ ফুরিয়ে গেলে আমরা পাওয়ার ব্যাংক খুঁজি। কিন্তু আপনার হাতে থাকা ফোনটিই যে অন্যের বিপদে পাওয়ার ব্যাংক হতে পারে, তা কি জানতেন? আধুনিক টাইপ-সি পোর্টযুক্ত ফোনগুলোতে ‘রিভার্স চার্জিং’ সুবিধা থাকে। এর মাধ্যমে একটি টাইপ-সি টু টাইপ-সি কেবল ব্যবহার করে আপনি সহজেই আপনার ওয়ারলেস ইয়ারবাড, স্মার্টওয়াচ কিংবা ফিটনেস ব্যান্ডের চার্জ ফুরিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক চার্জ দিতে পারবেন। এমনকি বন্ধুর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে জরুরি মুহূর্তে আপনার ফোন থেকে তার ফোনেও প্রাণসঞ্চার করা সম্ভব।
২. তারের সংযোগে সুপারফাস্ট ফাইল ট্রান্সফার
বর্তমানে ‘কুইক শেয়ার’ বা ‘নিয়ারবাই শেয়ার’-এর মতো প্রযুক্তিতে ফাইল আদান-প্রদান করা হলেও, অনেক বড় সাইজের ভিডিও বা ব্যাকআপ ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে এগুলোর গতি বা নেটওয়ার্ক সমস্যা বিরক্তির কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট হতে পারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান। দুটি স্মার্টফোনের মধ্যে সরাসরি টাইপ-সি কেবল সংযোগ করে এক ফোনের স্টোরেজ অন্য ফোন থেকে এক্সেস করা যায়। এতে ডেটা ট্রান্সফারের গতি যেমন বাড়ে, তেমনি কোনো ইন্টারনেট বা ওয়্যারলেস সংযোগ ছাড়াই বড় ফাইল নিমিষেই আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়।
৩. ফোনকে কম্পিউটারের মতো ব্যবহারের সুযোগ
দীর্ঘ ই-মেইল টাইপ করা বা অফিসের কোনো ডকুমেন্ট এডিট করা স্মার্টফোনের ছোট স্ক্রিনে বেশ কষ্টসাধ্য। তবে টাইপ-সি পোর্টের কল্যাণে আপনি আপনার ফোনের সাথেই বাহ্যিক কি-বোর্ড এবং মাউস যুক্ত করতে পারেন। এর জন্য ছোট একটি কনভার্টার বা সরাসরি টাইপ-সি সাপোর্টেড পেরিফেরাল ব্যবহার করলেই চলে। এটি শুধু কাজের গতিই বাড়ায় না, বরং ফোনের টাচস্ক্রিন বা ডিসপ্লে যদি কখনো ভেঙে যায় বা কাজ না করে, তখন মাউস সংযুক্ত করে জরুরি ডেটা উদ্ধার করতে এটি ‘লাইফ সেভার’ হিসেবে কাজ করে। কিছু প্রিমিয়াম ফোনে তো মনিটর, মাউস ও কি-বোর্ড যুক্ত করলে সেটি পুরোপুরি ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো ইন্টারফেস প্রদান করে।
৪. ছোট স্ক্রিন থেকে বড় পর্দায় বিনোদন
স্মার্টফোনে সিনেমা বা ভিডিও দেখার সময় অনেকেই বড় পর্দার অভাব বোধ করেন। কাস্টিং বা ওয়্যারলেস সংযোগে অনেক সময় ল্যাগ বা ধীরগতি দেখা যায়। এর সমাধানও রয়েছে আপনার ফোনের ওই ছোট্ট পোর্টটিতে। টাইপ-সি টু এইচডিএমআই (HDMI) কেবল বা অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করে সরাসরি ফোনটিকে টেলিভিশন বা মনিটরের সাথে যুক্ত করা যায়। এর ফলে কোনো প্রকার বাফারিং ছাড়াই ফোনের ডিসপ্লে হুবহু বড় পর্দায় দেখা সম্ভব হয়, যা প্রেজেন্টেশন দেওয়া বা গেম খেলার জন্য দারুণ কার্যকর।
৫. হেডফোন জ্যাকের বিকল্প এবং উন্নত অডিও
স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো এখন অধিকাংশ ফোন থেকেই ৩.৫ মিলিমিটার অডিও জ্যাক বাদ দিয়েছে। তবে তারযুক্ত ইয়ারফোনের দিন শেষ হয়ে যায়নি। ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট দিয়েই এখন হাই-রেজুলেশন অডিও আউটপুট পাওয়া সম্ভব। বাজারে এখন সরাসরি টাইপ-সি কানেক্টরযুক্ত ইয়ারফোন সহজলভ্য। আর আপনার যদি পুরোনো প্রিয় কোনো ৩.৫ এমএম ইয়ারফোন থাকে, তবে সামান্য একটি টাইপ-সি কনভার্টার বা ডংগল ব্যবহার করেই সেটি নতুন ফোনে ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে একটি মাত্র পোর্ট বা সংযোগ মাধ্যম কীভাবে আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলছে, ইউএসবি টাইপ-সি তার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাই কেবল চার্জ দেওয়ার জন্য নয়, বরং এই পোর্টের বহুমুখী সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট করে তুলুন।
Analysis | Habibur Rahman