১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৬:৩৯ সোমবার বসন্তকাল
দেশের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বৃত্তের বাইরে নতুন বিকল্পের সন্ধানে থাকা নাগরিকদের জন্য আলোচনার টেবিলে এলো একটি নতুন নাম। ‘হাতি’ প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মাঠে নামার ছাড়পত্র পেল বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি (বিআরপি)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভের মাধ্যমে দলটি এখন দেশের ৫৩তম নিবন্ধিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
দলটির চেয়ারম্যান কে এম আবু হানিফ হৃদয় এই প্রাপ্তিকে শুধু একটি নিবন্ধন হিসেবে দেখছেন না, বরং একে ‘গণতন্ত্রের বিজয় ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ২০০৮ সাল থেকে বহু নতুন দল নিবন্ধিত হলেও জাতীয় রাজনীতিতে তাদের অধিকাংশেরই প্রভাব নগণ্য। সেই প্রেক্ষাপটে বিআরপি কি পারবে দীর্ঘদিনের দ্বি-দলীয় রাজনীতির অচলায়তনে কোনো নাড়া দিতে?
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিআরপি কোনো পারিবারিক বা উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও আইনজীবীদের মতো বিভিন্ন পেশার নাগরিক, যারা প্রচলিত রাজনীতির ‘অশুদ্ধতা ও দুর্নীতি’ দেখে বীতশ্রদ্ধ। তাদের লক্ষ্য, রাজনীতিকে একটি ‘পবিত্র দায়িত্ব’ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং জনকল্যাণ, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বিশ্লেষকদের মতে, নিবন্ধন পাওয়াই চূড়ান্ত সাফল্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ যাত্রার সূচনা মাত্র। বড় দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি ও অর্থের দাপটের সামনে নতুন দলের টিকে থাকা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিআরপির মিশ্র পেশাজীবী নেতৃত্ব এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান যদি তৃণমূলের ভোটারদের কাছে পৌঁছানো যায়, তবে তারা একটি ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনই হবে বিআরপির জন্য প্রথম ও সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা। তাদের ‘হাতির’ মতো ধীরস্থির পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার নীতি জনগণের ভোটের বাক্সে কতটা অনুরণন তোলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
Analysis | Habibur Rahman





