
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎই দেখা দিয়েছে কূটনৈতিক আশার আলো। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পথে এগোচ্ছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং জানিয়েছে, তেহরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে ইসলামাবাদ শহরে, যা এই আলোচনায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো—
- ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে
- হরমুজ প্রণালি-তে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখতে হবে
- শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে
- যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা-র ইরানবিরোধী কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছে, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই উদ্যোগ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা অনেকটাই কমতে পারে। তবে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই আলোচনা কি স্থায়ী শান্তির পথ খুলবে, নাকি এটি কেবল সাময়িক বিরতি হয়ে থাকবে?