
জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কিছু সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে। এই অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সংসদে কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা কিছু পরিমার্জনসহ স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সংশোধনীগুলোর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সরকারকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণই এর মূল উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য জারি করা কঠোর অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এই আইনে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। তবে বিশেষ কমিটি মনে করছে, বিষয়টি আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করে পরে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনা উচিত।
কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আরও ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, গুম সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনটি বাতিল নয়—বরং প্রক্রিয়াগত কারণে পরে আবার আনা হবে।
এদিকে বিরোধী দলীয় সদস্যরা কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, বিশেষ করে বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
সংসদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো এখন সংসদীয় আলোচনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

