১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৩৯ বৃহস্পতিবার শীতকাল
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর পুনরাবৃত্তি রোধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ছাত্রনেতারা।

আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম এই কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন। এ সময় ‘হ্যাঁ–তে ভোট দিন, নিরাপদ বাংলাদেশ বুঝে নিন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সংস্কারের মাধ্যমে শহীদের রক্তের ঋণ শোধের আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মূল স্পিরিট বা চেতনা ছিল কেবল ক্ষমতার পটপরিবর্তন নয়, বরং বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার। আসন্ন গণভোট সেই সংস্কার বাস্তবায়নের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার মাধ্যমে এ দেশের মাটি থেকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে চিরতরে উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটে অংশগ্রহণ ও ইতিবাচক রায় প্রদান করা নাগরিকদের জন্য কেবল দায়িত্বই নয়, বরং এটি জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের রক্তের আমানত রক্ষা করার শামিল। সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া এই রাষ্ট্র সংস্কারের মহাযজ্ঞ সফল করা সম্ভব নয়।’
ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহা. মুহিউদ্দিন খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের ওপর নির্ভর করছে আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাব কি না। আহতরা এখনো যন্ত্রণাময় জীবন পার করছেন, শহীদেরা জীবন দিয়েছেন—তাঁদের সেই ত্যাগের প্রতিদান দিতে হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই।’
মাসব্যাপী কর্মসূচিতে যা থাকছে
ডাকসুর পক্ষ থেকে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ১৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. তৃণমূলে জনসংযোগ: ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণভোটের পক্ষে সরাসরি প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ।
২. ডিজিটাল ক্যাম্পেইন: তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-পোস্টার, ভিডিও বার্তা, রিলস ও লেখালেখির মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব প্রচার।
৩. বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক ও সেমিনার: গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ‘রাষ্ট্রীয় সংস্কারে হ্যাঁ-এর গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনা ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে তরুণদের প্রত্যাশা তুলে ধরা হবে।
৪. সাংস্কৃতিক জাগরণ: জনসচেতনতা বাড়াতে পথনাটক, মূকাভিনয়, গণভোটের পক্ষে গান, কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ।
৫. মতবিনিময় সভা: সুশীল সমাজ, সংবাদপত্রের সম্পাদক, টেলিভিশন সাংবাদিক, মোবাইল সাংবাদিক (মোজো) ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে মতবিনিময়।
৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সফর: সারা দেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সফর করে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা।
৭. আহতদের ভাবনা: জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন।
জাতীয় ঐক্যের ডাক
সংবাদ সম্মেলন থেকে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলোকে ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।
আগামী এক মাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে এই কর্মসূচি পালিত হবে বলে ডাকসুর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
Analysis | Habibur Rahman