১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৩৭ বৃহস্পতিবার শীতকাল
থাইল্যান্ডের নাখন রাচাসিমা প্রদেশে বুধবার সকালে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। একটি যাত্রীবাহী চলন্ত ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন হাই-স্পিড রেললাইনের বিশাল আকৃতির ক্রেন ধসে পড়লে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায় এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন যাত্রী।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে রাজধানী ব্যাংকক থেকে উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নাখন রাচাসিমা প্রদেশে এই বিপর্যয় ঘটে। ব্যাংকক থেকে উবন রাচাথানি প্রদেশের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী ট্রেনটি যখন ওই এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই ওপর থেকে আছড়ে পড়ে বিশাল ওই ক্রেনটি।
প্রদেশের জনসংযোগ দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ক্রেনটি ট্রেনের ওপর পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রচণ্ড আঘাতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে বগিগুলোতে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, লাইনচ্যুত ট্রেনের উজ্জ্বল রঙের বগিগুলো দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো এবং হতাহতদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন।
হতাহতের পরিসংখ্যান ও সরকারি ভাষ্য
নাখন রাচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থাচাপন চিননাওং সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ৮০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিফাত রাচাকিতপ্রাকর্ন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন। উদ্ধারকারী দল ও কর্তৃপক্ষ বর্তমানে নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মেগা প্রজেক্টের আড়ালে নিরাপত্তা ঝুঁকি
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ক্রেনটি একটি বিশাল বাজেটের উচ্চ-গতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রায় ৫৪০ কোটি ডলার (৫.৪ বিলিয়ন) মূল্যের এই প্রকল্পটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের অংশ। চীন ও থাইল্যান্ডের যৌথ সহযোগিতায় চলমান এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে লাওসের ভেতর দিয়ে ব্যাংককের সঙ্গে চীনের কুনমিং শহরকে রেলপথে সংযুক্ত করা।
তবে এত বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে নিরাপত্তার এমন ফাটল প্রশ্নবিদ্ধ করেছে দেশটির নির্মাণ খাতের তদারকি ব্যবস্থাকে। থাইল্যান্ডে শিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণে নিরাপত্তার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। নিরাপত্তা বিধিমালা বা সেফটি প্রটোকল সঠিকভাবে না মানার কারণে দেশটিতে প্রায়শই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বুধবারের এই ট্র্যাজেডি আবারও সেই অব্যবস্থাপনার চিত্রই করুণভাবে ফুটিয়ে তুলল।
Analysis | Habibur Rahman