.
খেলা

বিশ্বকাপে অর্থের ঝনঝনানি: চ্যাম্পিয়নদের জন্য ৬০০ কোটি, ৫০ শতাংশ বাড়ল প্রাইজমানি

Email :20

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ভোর ৫:৩৬ বৃহস্পতিবার শীতকাল

২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় বসতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যার দিক থেকেই নয়, আর্থিক পুরস্কারের দিক থেকেও গড়তে যাচ্ছে এক অনন্য ইতিহাস। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরের জন্য ফিফা যে রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, তা অতীতের সব পরিসংখ্যানকে ম্লান করে দিয়েছে। আগামী আসরে শিরোপাজয়ী দল পাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

বিশ্বকাপ ট্রফি। আগামী বছর জুনে শুরু হবে বিশ্বকাপরয়টার্স

সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি আগের আসরগুলোর তুলনায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৪৮টি দলের এই মহাযজ্ঞে মোট প্রাইজমানি হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার সমান।

চ্যাম্পিয়ন ও অন্যান্যের প্রাপ্তি
বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফির পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন দল পাবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা)। ফাইনালে হেরে যাওয়া রানার্সআপ দলের জন্যও থাকছে বড় অঙ্কের সান্ত্বনা পুরস্কার। তারা পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এছাড়া টুর্নামেন্টে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল যথাক্রমে ২ কোটি ৯০ লাখ ও ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার অর্থপুরস্কার পাবে। এমনকি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোও খালি হাতে ফিরবে না; তাদের প্রত্যেকে পাবে ৯০ লাখ ডলার করে।

প্রস্তুতির জন্য বিশেষ বরাদ্দ
মূল পুরস্কারের বাইরেও দলগুলোর প্রস্তুতির সুবিধার্থে ফিফা আলাদা অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে তাদের ভ্রমণ, আবাসন, ট্রেনিং ক্যাম্প এবং লজিস্টিকস খরচ মেটানোর জন্য ১৫ লাখ ডলার করে প্রদান করা হবে। এই ‘প্রিপারেশন মানি’ বাবদ ফিফার মোট খরচ হবে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

অতীতের সঙ্গে তুলনা
অর্থের এই উল্লম্ফন কতটা বিশাল, তা পেছনের কয়েকটি বিশ্বকাপের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়। ২০২২ সালে কাতারে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টিনা প্রাইজমানি হিসেবে পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। তার আগে ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স পেয়েছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফিফা ১৯৮২ সাল থেকে প্রাইজমানির অঙ্ক প্রকাশ শুরু করে; সেবার ইতালি বিশ্বকাপ জিতেছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার পুরস্কার নিয়ে। অর্থাৎ, চার দশকের ব্যবধানে ফুটবলের বাণিজ্যিক পরিধি এবং পুরস্কারের অঙ্ক আকাশচুম্বী হয়েছে।

টিকিট বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া
প্রাইজমানি বাড়লেও টুর্নামেন্টের টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে সম্প্রতি সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফিফা। সমর্থকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত কিছু ক্যাটাগরির টিকিটের দাম কমিয়ে ৬০ ডলারে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয় সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টম গ্রেট্রেক্স বলেন, “রেকর্ডভাঙা এই পুরস্কার তহবিল প্রমাণ করে যে ফুটবলে অর্থের কোনো সংকট নেই। বিশ্বকাপের বিশেষত্ব ও আবেগ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে ফিফার এখনই নজর দেওয়া উচিত।”

নতুন দিগন্তের সূচনা
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দকে বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য ‘আর্থিকভবে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে পর্দা উঠবে ৪৮ দলের এই মেগা ইভেন্টের। উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts